বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ করে আইন মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে শোকজের চিঠি দেওয়া হয়। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে নিয়ে বুধবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত বলেন, ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কিছু মতামত লিখেছিলেন। এ জায়গাটাই সবচেয়ে চিন্তার। বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
তিনি আরও বলেন, স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এটা স্পষ্টভাবে একটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। বার্তাটা খুব পরিষ্কার- ‘চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন’।
এনসিপির এই এমপি বলেন, ৫ আগস্টের পর একটা সময় মনে হয়েছিল, বিচারকরা অন্তত কিছুটা সাহস নিয়ে ভাবতে, লিখতে পারছেন এবং ভবিষ্যতেও লিখবেন। এখন যা হচ্ছে, তাতে সেই পরিবেশটা আবার ধীরে ধীরে ভয়ের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিচার বিভাগে যদি এ ধরনের চাপ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জায়গাটাও দুর্বল হয়ে যায়।
বিচারকদের শোকজের বিষয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এটা কোনো ব্যক্তির বিষয় না, এটা একটা সিস্টেমের বিষয়। বিচারকদের কণ্ঠ যদি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে।
বিচারকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই জুলাইযোদ্ধা। তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না বরং দুর্বল করে ফেলা হয়।