রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার ভালো কথার ফুলঝুরি দিয়ে সাজানো হয়েছে। ইশতেহারগুলো আকর্ষণীয় হলেও তা বাস্তবায়নের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বড় দুই দলের ইশতেহারই অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘কোন দলের কেমন ইশতেহার?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ কথা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ প্রমুখ।

সুজন বলছে, ইশতেহারে রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। ইশতেহারগুলোতে ভালো কথার ফুলঝুরি কিন্তু প্রান্তিক মানুষ ও প্রবাসীদের জন্য কোনো নির্দেশনা নেই। ১ কোটি লোককে চাকরি দেওয়ার কথা আছে কিন্তু এজন্য অর্থের সংস্থান কোথা থেকে হবে সে বিষয় স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সবাই সংস্কারের পক্ষে তাদের মত দিয়েছে। নির্বাচনে যে দল বিজয়ী হবে তারা ইশতেহার কতটা বাস্তবায়ন করল, সে বিষয়টি তদারকি করা হবে বলে জানায় সংগঠনটি।

কোন দলের ইশতেহার অধিকতর ভালো-এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কোন দলের ইশতেহার সবচেয়ে ভালো, তা নির্দিষ্ট করে বলা অসম্ভব। একেকজনের কাছে একেকটি ইশতেহার ভালো মনে হতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিটি ইশতেহারে আসলে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কারভাবে পৌঁছানো। সব দলই তাদের ইশতেহারে ইতিবাচক কথা বলেছে। তবে কোনো একটিকে অন্যটির চেয়ে সরাসরি সেরা বা খারাপ বলা কঠিন। বরং খাতওয়ারি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোনোটিতে নির্দিষ্ট কিছু দিক আছে আবার কোনোটিতে নেই। বিস্তারিত পর্যালোচনা ও বিভিন্ন ডাইমেনশন থেকে দেখলে প্রতিটি ইশতেহারের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলো ধরা পড়বে।’

সুজন বলছে, ‘ইশতেহারগুলোর একটি সাধারণ দুর্বলতা হলো কর্মসূচির আর্থিক প্রাক্কলনের অভাব। ফলে নীতিগতভাবে আকর্ষণীয় হলেও বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে নাগরিকের মধ্যে প্রশ্ন থেকে যায়। এটি আগ্রহ উদ্দীপক যে কোনো দলই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হবে এবং সে অর্থ কোন কোন উৎস থেকে সংগৃহীত হবে, তার কোনো বিবরণ ইশতেহারে নেই।’

সংগঠনটি বলছে, ‘আমাদের বিশ্লেষণে দেখা যায় যে বড় দুটি দলের ইশতেহারই অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী। জামায়াতের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে সবার আগে সুশাসন নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আছে। কারণ দুর্নীতিকে অন্তত সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে না পারলে একদিকে করের হার কমিয়ে ব্যয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ লাভ করবে কি না ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে করের আওতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা গেলে, সরকারি নিয়োগ, বিনিয়োগ, ক্রয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেধাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হলে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে লোকসান কমিয়ে আনা গেলে এ ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্ভব হতে পারে। একইভাবে বিএনপির ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ১ কোটি কর্মসংস্থান, ২০৩৫ সালের মধ্যে অর্থনীতি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীতকরণ, ক্রমান্বয়ে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা, ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ইত্যাদি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রকল্প। কৃষক কার্ডের আওতা এবং এর আওতায় প্রতিশ্রুত ভর্তুকির পরিমাণ স্পষ্ট নয়। ফলে এ কার্ডে কী পরিমাণ রাজস্ব ব্যয় হবে তা নির্ণয় করা দুষ্কর। দেশের কর-জিডিপির হার বাড়াতে হলে অবশ্যই করের আওতা বহুগুণে সম্প্রসারণ করতে হবে। ধনীদের করের জালে আবদ্ধ করার বিএনপির পরিকল্পনা বিত্তশালীদের প্রতিরোধের মুখে পড়ার আশঙ্কা নাকচ করা যায় না। সংগঠনটি বলছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ শাসনকাঠামো ও নীতিগত দিকনির্দেশ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এ প্রবন্ধে উপস্থাপিত তুলনামূলক বিশ্লেষণ দেখায় যে ভোটারদের সামনে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রদর্শন ও উন্নয়ন মডেল উপস্থাপিত হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা এ ইশতেহারগুলোর কোন দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবে রূপ পায়, তার ওপর নির্ভর করবে। এ ছাড়া ইশতেহারে জুলাই সনদ এবং গণভোট নিয়ে দলগুলোর অবস্থানের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সুজন। জুলাই সনদের ক্ষেত্রে বিএনপি সব হুবহু বাস্তবায়ন করতে না চাইলেও জামায়াত-এনসিপিসহ অন্যরা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করার কথা তুলে ধরেছে বলে জানায় সংগঠনটি। এ ছাড়া গণভোটের ক্ষেত্রে বিএনপির সমর্থন ক্ষীণ থাকলেও জামায়াত এবং এনসিপি হ্যাঁ-ভোটের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান জানিয়েছে আর জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যেই না-ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানায় সুজন। তবে যে দলই সরকারে আসুক, মৌলিক বিষয়গুলো যেন বাস্তবায়ন হয় তার দাবি জানায় সংগঠনটি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews