ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের নায়ক লাউতারো মার্টিনেজ বলেছেন, এই গোল করার স্বপ্ন তিনি আগেই দেখেছিলেন।
বুধবার আটলান্টায় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে আর্জেন্টিনার ২-১ ব্যবধানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর মার্টিনেজ বলেন, ‘আমি এটা স্বপ্নে দেখেছিলাম। আমি আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে বলেছিলাম, আমি গোল করব। বেঞ্চে বসে আমি ফাকুন্দো মেদিনাকেও বলেছিলাম, আমি মাঠে নেমে গোল করব।’
মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৮১তম মিনিটে ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারকে ডিফেন্ডার নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয়। ওই সময় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল।
৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির বাড়ানো বল থেকে এনজো ফার্নান্দেজ সমতায় ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেড করে জয়সূচক গোলটি করেন মার্টিনেজ।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত মার্টিনেজ বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবা যখন প্রথম আমাকে একজোড়া ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।’
২৮ বছর বয়সী মার্টিনেজ ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের অভিযানের শুরুতে কোচ লিওনেল স্কালোনির একাদশে নিজের জায়গা হারিয়েছিলেন। তবে এবার তিনি গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই শুরু থেকে খেলেন এবং জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে একটি গোলও করেন। কিন্তু শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচটিতে তাকে বদলি করা হয়, এরপর আর কোনো ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পাননি।
তবুও কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করেন। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও বদলি হয়ে নেমে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ফাইনালে প্রতিপক্ষ স্পেন সম্পর্কে মার্টিনেজ বলেন, ‘আমরা এমন একটি শীর্ষমানের দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যারা টানা ৩৮ ম্যাচ ধরে অপরাজিত এবং যাদের দলে অসাধারণ মানের খেলোয়াড় রয়েছে। এখন আমাদের কিছুটা বিশ্রাম নিতে হবে। তবে এই মুহূর্তটাও উপভোগ করতে হবে, কারণ আমরা যা করছি, তা মোটেও সহজ নয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে শিরোপা জয়ের সাড়ে তিন বছর পর আবারো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা বড় অর্জন।’
স্পেন সর্বশেষ হেরেছিল ২০২৪ সালের মার্চে, একটি প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে কাতারে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যে ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই ম্যাচ স্থগিত করা হয়।
বিশ্বকাপে স্পেন ও আর্জেন্টিনা ১৯৬৬ সালে একবারই মুখোমুখি হয়েছিল। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের ভিলা পার্কে অনুষ্ঠিত সেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল।