ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৬ জন। তবে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনি প্রচারণা, জনপ্রিয়তা এবং ভোটের হিসাবে চূড়ান্ত ভোটযুদ্ধে মূলত দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাই দেখা যাচ্ছে।
ফরিদপুর-২ আসনে এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত (ধানের শীষ প্রতীক) প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওয়ায়েদ— এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (রিকশা প্রতীক) প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী। এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে যেকোনো একজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
ফরিদপুর-২ আসনে আরও ৪ জন প্রার্থীর নাম খাতা-কলমে পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাদের পরিচিতি এবং নির্বাচনি প্রচারণা খুবই সীমিত। এরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত (ট্রাক প্রতীক) প্রার্থী ফারুক ফকির, বাংলাদেশ কংগ্রেস মনোনীত (ডাব প্রতীক) প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত (হাতপাখা প্রতীক) প্রার্থী শাহ মো. জামাল উদ্দীন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ মনোনীত (আপেল প্রতীক) প্রার্থী মো. আকরামুজ্জামান মিয়া।
জানা গেছে, ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা) আসনে মোট ১৭টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা রয়েছে। ফরিদপুর-২ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন। মোট পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯০৪ জন। মোট নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৩৭ জন। মোট কেন্দ্র ১১৭টি।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন মাদারীপুর-৩ আসনের ৭২টি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ
-698c259c7ab56.jpg)
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার ফরিদপুর-২ আসনে ভোটের হিসাব খুবই জটিল। এই আসনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি অনেক জনপ্রিয়। এই দুই দলের অনেক সমর্থক রয়েছে। এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারায়, দলটির স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী বিএনপিসহ বিভিন্ন দলে যোগদান করেছেন। এদের ভোট কোন দিকে যায়, তার ওপর নির্ভর করছে ভোটের হিসাব-নিকাশ।
এছাড়া ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় প্রচুর কওমি মাদ্রাসা থাকায় আলেম-ওলামাদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর-২ আসনের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা এলাকায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখবে, এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।