চীনে ঋণ দেয়ার কার্যক্রম ২০৩১ সালের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বিশ্বব্যাংক।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চীনের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্কে (সিপিএফ) বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী কয়েক বছরে চীনে তাদের ঋণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।
এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ (ডব্লিউবিজি) জানায়, সিপিএফ কার্যকালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ব্যাংক ফর রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইবিআরডি) মাধ্যমে দেয়া ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানো হবে। এই সময়ে আইবিআরডির ঋণ সহায়তা সর্বোচ্চ ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।
সিপিএফ হলো বিশ্বব্যাংক ও কোনো অংশীদার দেশের মধ্যে সম্মত একটি বহু বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা, যেখানে উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, নীতিগতভাবে সিপিএফের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আইবিআরডি থেকে নতুন করে কোনো ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ জানায়, পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা চীনের সাথে তাদের ৪৫ বছরের অংশীদারত্বের নতুন এক পর্যায়ের সূচনা করবে। চীন এখন আর প্রধানত অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দেশটির প্রয়োজন হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জ্ঞান বিনিময়।
বিশ্বব্যাংকের পরিচালন বিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়েরদে বলেন, ‘আমাদের অংশীদারত্বের ধরন পরিবর্তনের সাথে সাথে ক্রমেই জ্ঞান, উদ্ভাবন ও যৌথ সমাধানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্যের হার কমে আসার কারণে দেশটিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেয়ার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
বিয়েরদে বলেন, ‘চীন যখন বয়স্ক জনসংখ্যা, পরিবর্তনশীল অর্থনীতি এবং অন্যান্য উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন আমরা তার সাথে কাজ করে এমন ধারণা ও সমাধান তৈরি করতে চাই, যা শুধু চীন নয়, বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হবে।’
চীনের উপ-অর্থমন্ত্রী লিয়াও মিন বলেন, ঋণ বিষয়ক সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও চীন বিশ্বব্যাংকের সাথে সহযোগিতা আরো গভীরভাবে চালিয়ে যাবে।
বিশ্বব্যাংক ও চীনের মধ্যে নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি উন্নত কর্মসংস্থান, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কম কার্বন নিঃসরণভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে চীনকে ঋণ দেয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদেও একই ধরনের অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে এবার তিনি সেই দাবিটির পুনরাবৃত্তি করেননি।
বিশ্বব্যাংকের চীনকে দেয়া ঋণ ২০১৭ সালে সর্বোচ্চ দুই দশমিক ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে ২০২৫ সালে তা কমে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে।
এদিকে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) তহবিলেও চীন অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে। সর্বশেষ তহবিল পুনর্গঠন কার্যক্রমে চীন ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এর ফলে বেইজিং আইডিএর পঞ্চম বৃহত্তম দাতা দেশে পরিণত হয়েছে।