বিশ্লেষকদের মতে, এই গভীর সম্পর্কের মূলে রয়েছে একটি অভিন্ন আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি।
মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মূল ভিত্তি হলো ‘হিন্দুত্ব’ নামক এক দর্শন, যা ভারতকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের হিন্দুদের জন্য একে একটি স্বাভাবিক মাতৃভূমি হিসেবে বিবেচনা করে। ঠিক একইভাবে ইসরায়েল নিজেকে ইহুদিদের মাতৃভূমি হিসেবে দেখে।
২০২৩ সালে প্রকাশিত ‘হোস্টাইল হোমল্যান্ডস: দ্য নিউ অ্যালায়েন্স বিটুইন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইসরায়েল’ বইয়ের লেখক আজাদ এসা বলেন, ‘মোদির অধীনে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক হলো এমন দুটি আদর্শের বন্ধন, যারা নিজেদের সভ্যতাগত প্রকল্প হিসেবে দেখে এবং মুসলিমদের জনসংখ্যাগত ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে।’
এসা আল-জাজিরাকে বলেন, তাদের শ্রেষ্ঠত্ববাদী লক্ষ্যগুলো একই রকম বলে এই বন্ধুত্ব কাজ করছে। মোদির অধীন ভারত ও ইসরায়েল কৌশলগত অংশীদার হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দিল্লি ইসরায়েলকে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
ইসরায়েল থেকে ভারতের শিক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো নরেন্দ্র মোদির দলের তথাকথিত ‘বুলডোজার জাস্টিস’ বা বুলডোজারের মাধ্যমে বিচার।
গত এক দশকে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিশাসিত বেশ কয়েকটি রাজ্যের সরকার শত শত মুসলিমের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তা–ই নয়, অসংখ্য মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো আইনি নোটিশ ছাড়াই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।