লেবাননের টায়ার শহর এবং জহরানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। হামলায় লেবানিজ সেনা নিহতের খবরও পাওয়া গেছে।
এর আগে অঞ্চলটি থেকে লাখ লাখ মানুষকে ঘরবাড়ি ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় তেল আবিব। অন্যদিকে, এই আগ্রাসন রুখতে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এখনও লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী। এরইমধ্যে দেশটির অন্যতম বৃহত্তম এবং প্রাচীন শহর টায়ারসহ জহরানি নদীর দক্ষিণ অঞ্চলকে ‘কমব্যাট জোন’ বা যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করেছে তেল আবিব।
সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের এই অঞ্চলজুড়ে লেবাননের বাসিন্দাদের অবিলম্বে উত্তর দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েল বাহিনী। বাস্তুচ্যুতির এই নির্দেশের পরপরই টায়ার, দেইর আমাস ও বুর্জ আল-শামালিসহ লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ১২০টিরও বেশি ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
এতে নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি হামলায় লেবানিজ সেনা নিহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে বৈরুত।
এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে লেবাননের ভেতরে একটি ‘নিরাপত্তাবলয়’ গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর একটি বিশাল অংশকে লেবাননের আরও গভীরে পাঠানো হয়েছে।
তবে সীমান্তে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। জাওতার আল-শারকিয়ায় মুখোমুখি লড়াইয়ে ইসরায়েলি সেনা ও ট্যাংক লক্ষ্য করে ড্রোন, রকেট হামলা চালিয়েছে তারা। এতে ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
গত মার্চে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ২১৩ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন ছয় শতাধিক। জবাবে হিজবুল্লাহর ড্রোন ও রকেট হামলায় অন্তত ১০ ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেল আবিব।