ঈদের আনন্দঘন পরিবেশে কুরবানির মাংস কাটাকাটি যেন পারিবারিক উৎসবের অংশ হয়ে যায়। তবে এই আনন্দের মাঝেই সামান্য অসতর্কতা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রতি বছর ঈদের সময় কাটা-ছেঁড়াজনিত আঘাত নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ ভুলের কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এরকম কিছু সাধারণ ভুল এবং কীভাবে তা প্রতিরোধ করা যায়।
ভোঁতা ছুরি: সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
অনেকেই মনে করেন ধারালো ছুরি বেশি বিপজ্জনক, কিন্তু ভোঁতা ছুরি ব্যবহারেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেশি থাকে। কারণ এতে বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হয় এবং হাত পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ধারালো ছুরি তুলনামূলক কম চাপেই নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবহার করা যায়।
ভুল দিক থেকে কাটা বড় সমস্যা
অনেকে নিজের দিকেই ছুরি টেনে কাটার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ছুরি সবসময় শরীরের বিপরীত দিকে চালানো উচিত। এছাড়া তাড়াহুড়া করে বড় টুকরা কাটতে গেলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন কুরবানির গোশত ফ্রিজে যেভাবে সংরক্ষণ করবেন

পিচ্ছিল মাংস সামলানো জরুরি
কাঁচা মাংস সহজেই হাত থেকে পিছলে যেতে পারে। তাই শক্ত চপিং বোর্ড ব্যবহার করা উচিত এবং বোর্ডের নিচে ভেজা কাপড় বা রাবার দিলে সেটি স্থির থাকে। আঙুল সুরক্ষিত রাখতে 'ক্ল গ্রিপ' পদ্ধতিতে মাংস ধরা ভালো। পাশাপাশি কাঁচা মাংস ও সবজির জন্য আলাদা বোর্ড ব্যবহার করা প্রয়োজন, যাতে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।
মনোযোগ হারালেই বিপদ
মাংস কাটার সময় ফোন ব্যবহার, গল্প করা বা অন্যদিকে মনোযোগ দিলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই পুরো সময় সতর্ক ও মনোযোগী থাকা জরুরি।
হাত কেটে গেলে প্রথমে পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। বারবার খুলে দেখা যাবে না। রক্তপাত বন্ধ হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে অ্যান্টিসেপটিক লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করতে হবে। তবে ক্ষত গভীর হলে, রক্তপাত বন্ধ না হলে কিংবা হাড় বা রগ দেখা গেলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুরবানির সময় সতর্ক থাকলে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব। আর মাংস কাটার অভিজ্ঞতা না থাকলে পেশাদার কারও সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হতে পারে।