‘শুভ কাজে সবার পাশে’-এই স্লোগানকে ধারণ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চা বাগানের অসহায় নারী শ্রমিকদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মৌলভী চা বাগানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অসহায় ও দুস্থ মুসলিম চা শ্রমিক নারীদের হাতে অগ্রিম ঈদ উপহার হিসেবে নতুন শাড়ি তুলে দেওয়া হয়।
উপহারপ্রাপ্ত নারীদের অনেকেই স্বামীহারা বা পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী সদস্য। চা বাগানে দিনমজুরির সামান্য আয়ে তাদের সংসার চলে। অনিয়মিত আয়ে যেখানে দুবেলা খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর, সেখানে ঈদের জন্য নতুন পোশাক কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো শাড়ি সেলাই করে ব্যবহার করেন। ঈদের আগে নতুন শাড়ি হাতে পেয়ে উপকারভোগীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দ আর আবেগমাখা স্বস্তির হাসি।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এম. মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরী, ব্রিটেন প্রবাসী শামীম তরফদার এবং দৈনিক কালের কণ্ঠের মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ও শুভসংঘের উপদেষ্টা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মনু’র মুখ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ ইমরান সাজু, জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া ইমন, সমাজকর্মী আব্দুর রহমান পারভেজ এবং সংবাদকর্মী মামুন তরফদার। স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠানের সমন্বয় করেন হৃদয় রিকমুন ও মো. রনি মিয়া।
উপকারভোগী চা শ্রমিক নারী জামিলা বেগম ও আসমা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নেই, আমরা বিধবা। বসুন্ধরা শুভসংঘের কাছ থেকে এই শাড়ি পেয়ে খুব ভালো লাগছে।”
ফাতেমা বেগম বলেন, “সামান্য উপার্জনে সংসার চালানোই কঠিন। ঈদের জন্য নতুন শাড়ি পাওয়া আমাদের জন্য অনেক বড় আনন্দ।”
আরেক নারী সাফিয়া বেগম কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “প্রতিবার পুরোনো শাড়ি পরে ঈদ করেছি। এবার বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে নতুন শাড়ি পেয়ে খুব খুশি লাগছে।”
এ সময় বক্তারা বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সব সময় সমাজের অসহায় ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। চা বাগানের নারী শ্রমিকরা সমাজের একটি অবহেলিত অংশ। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘ মৌলভীবাজার শাখার সভাপতি এম. মুহিবুর রহমান মুহিব বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া