বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৪টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবীর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হামিদুল আলম মিলন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়ার বাসিন্দা। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (অতিরিক্ত ডিআইজি) ছিলেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মিলনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, শাহাজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। একই সাথে স্বামীর ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ-দখলে রাখেন। স্বামীর সরকারি চাকরির ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। শাহাজাদী আলম লিপি ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন এবং সম্পদের উৎস গোপন বা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেন।
এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫ (২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
দুদকের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আনোয়ার হোসেন জানান, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হামিদুল আলম মিলন মামলায় হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবীর জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।
বগুড়ার কোর্ট পুলিশ পরির্দশক শহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। আদেশের পর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে, তিনি গত বছরের ১৭ নভেম্বর গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফ্ল্যাট দেয়ার নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠান জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। পরে ঈদুল ফিতরের কিছুদিন আগে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এছাড়া চাকরিতে থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরো একটি মামলা আছে মিলনের বিরুদ্ধে। এ মামলায় হামিদুল আলম মিলনের সাথে তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে।