২০২৪ সালের ‘৩৬ জুলাই’ (৫ আগস্ট) ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের পর দেশ পুনর্গঠনে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রবাসীরা। আন্দোলনের বিজয়ের পর রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অনৈক্য, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং প্রবাসীদের আক্ষেপ তুলে ধরে রোম (ইতালি) প্রবাসী মোঃ মশিয়ার রহমান মিন্টু একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।
খোলা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তিই ছিল সর্বস্তরের মানুষের অভূতপূর্ব ঐক্য। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল পতিত স্বৈরাচারী শক্তিকে পুনর্বাসিত করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ করে দিচ্ছে।
জনজীবনের সংকট ও প্রবাসীদের উৎকণ্ঠাসহ চিঠিতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়:
দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুৎ সংকট: বাজার সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের অসঙ্গতিপূর্ণ বিল মধ্যবিত্তের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি: সন্ত্রাস, খুন, চাঁদাবাজি এবং সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ও দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
প্রবাসীদের ভূমিকা: প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রমে পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অথচ দেশের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের কষ্ট প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি সমাজকে গভীরভাবে ব্যথিত করছে।
দেশকে অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে এবং শহীদদের রক্ত ও প্রবাসীদের পরিশ্রম সার্থক করতে সরকার ও সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি চার দফা আকুল আবেদন জানানো হয়েছে:
জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা: জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্য বজায় রাখা।
দ্রব্যমূল্য ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণ: বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা এবং বিদ্যুৎ খাতের অসঙ্গতি দূর করা।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমন: অপরাধ, চাঁদাবাজি ও মেগা প্রকল্পের দুর্নীতি বন্ধে কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা।
দেশ পুনর্গঠনে দৃষ্টি দেওয়া: কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
খোলা চিঠির বক্তব্যে জোর দিয়ে বলা হয়, একটি স্থিতিশীল, শান্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সরকার, বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক পক্ষকে জাতীয় স্বার্থে এক টেবিলে বসে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।