সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে গিয়ে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীরা যে ক্ষতির মুখে পড়ছে, তা পুষিয়ে দিতে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান ‘মেটা’কে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৭ হাজার ১৬ কোটি টাকা) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত।
একই মামলার ঐতিহাসিক প্রথম ধাপের বিচার প্রক্রিয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা হেরে যাওয়ার পর এই দ্বিতীয় ধাপের রায় আসল।
বৃহস্পতিবারের (৬ আগস্ট) এই রায়ে বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড জানান, নির্ধারিত অর্থের বড় একটি অংশ (প্রায় ৪২ কোটি ডলার) তরুণদের চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহৃত হবে। বাকি অর্থ আগামী পাঁচ বছরে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, স্ক্রিনিং সেবা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচে ব্যয় করা হবে।
এর আগে মামলার প্রথম ধাপে জুরি বোর্ড মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ানি জরিমানা করেছিল। আদালতে প্রমাণিত হয়েছিল যে, মেটা জেনেশুনে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছে এবং নিজেদের প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নিপীড়ন ও শোষণের খবর লুকিয়ে রেখেছিল।
ডিজিটাল পরিবর্তনের নির্দেশ
মামলার দ্বিতীয় ধাপে প্রসিকিউটররা বিচারকের কাছে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে মূলগত কিছু পরিবর্তনের দাবি জানান—যার মধ্যে ছিল আসক্তিমূলক ফিচারগুলো নিয়ন্ত্রণ করা, বয়স যাচাই ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ডিফল্ট প্রাইভেসি সেটিংসের মাধ্যমে শিশু যৌন নিপীড়ন রোধ করা।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এখনো ৮০ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয়

এই রায়ের ফলে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোর বাহ্যিক রূপ ও ব্যবহারে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নিয়মিত ব্যানার ও তথ্যমূলক স্ক্রিন তৈরি করে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা ফিচার, ক্ষতিকর বা অসংবেদনশীল মন্তব্য প্রতিরোধের উপায় ও বিভিন্ন টুলের ব্যবহার সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতে হবে।
তবে আদালত উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় শিশু সুরক্ষা আইন-এর বাধ্যবাধকতার কারণে ১৩ বছরের কম বয়সিদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ বা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি বয়স যাচাইয়ের নির্দেশ মেটাকে দেওয়া সম্ভব নয়। তার পরিবর্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর আচরণ, বন্ধু তালিকা ও কনটেন্টের ভিত্তিতে বয়স নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে ১৩ বছরের কম বয়সিদের সনাক্ত করতে একটি ডেডিকেটেড প্রেডিকশন মডেল তৈরির নির্দেশও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া মেটাকে আগামী দুই বছর প্রতি ৬ মাসে একবার করে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আপিলের ঘোষণা মেটার
আদালতের এই রায়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমরা এই রায়ের সঙ্গে একমত নই এবং এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আমরা আমাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে সবসময় স্বচ্ছ থেকেছি। আমরা তরুণদের সুরক্ষায় আমাদের অবস্থানের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।’
সূত্র: এনডিটিভি