কানাডার টরন্টো শহরে প্রথমবারের মতো এমপক্স (পূর্বনাম মাঙ্কিপক্স) ভাইরাসের একটি নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। টরন্টো পাবলিক হেলথ (টিপিএইচ) নিশ্চিত করেছে যে, ভ্রমণ-সম্পর্কিত কারণে দুই ব্যক্তির শরীরে ‘ক্লেড আইবি’ স্ট্রেইনের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। টরন্টো এবং পুরো অন্টারিও প্রদেশে এই স্ট্রেইনের উপস্থিতি এটাই প্রথম।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন শনাক্ত হওয়া ক্লেড আইবি ভ্যারিয়েন্টটি মূলত কেন্দ্রীয় ও পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মধ্যে সীমিত সংখ্যায় এই স্ট্রেইন শনাক্ত হয়েছে। একইসঙ্গে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশেও এর উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ভাইরাসটির ভৌগোলিক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
- Advertisement -
২০২২ সাল থেকে টরন্টোতে এমপক্সের যে সংক্রমণ দেখা যাচ্ছিল, তা ছিল মূলত ‘ক্লেড আইআইবি’ ধরনের। তবে নতুন এই স্ট্রেইনের আবির্ভাব পরিস্থিতিকে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে। পাবলিক হেলথ এজেন্সি অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ক্লেড আইবি তুলনামূলকভাবে ক্লেড আইএ-এর চেয়ে কম মারাত্মক হলেও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
শহরজুড়ে এমপক্স সংক্রমণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ডাউনটাউন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আক্রান্তের হার তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে। গত বছর টরন্টোতে মোট ১৫৫ জন এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য করেছে।
ডা. আদনান কোরেশি এই প্রতিবেদককে জানান, এমপক্স ভাইরাস প্রধানত সংক্রমিত ব্যক্তির শরীরের ক্ষতস্থান, ত্বকের ফুসকুড়ি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। এছাড়া ভাইরাস দ্বারা দূষিত কোনো বস্তু যেমন পোশাক বা বিছানাপত্র স্পর্শ করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এমনকি সংক্রমিত প্রাণীর কামড় বা আঁচড় থেকেও ভাইরাসটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
বর্তমানে সংক্রমণের একটি বড় কারণ হিসেবে ঘনিষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ককে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। টিপিএইচ জানিয়েছে, গে, বাইসেক্সুয়াল এবং অন্যান্য পুরুষ যারা পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, তাদের মধ্যে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
টরন্টোর একটি হেলথ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. তরুণ জানিয়েছেন, এমপক্সের বিভিন্ন স্ট্রেইনের লক্ষণ প্রায় একই রকম। সাধারণত ত্বকে ফুসকুড়ি বা ক্ষত, জ্বর এবং ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা যায়। ফলে নতুন ভ্যারিয়েন্ট হলেও উপসর্গ শনাক্তকরণে বড় ধরনের পার্থক্য নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা পদ্ধতিও একই রয়েছে। এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে ভ্যাকসিনেশনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মানুষদের দ্রুত টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় টরন্টো পাবলিক হেলথ নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংক্রমণ আরও বিস্তার লাভ না করে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার
- Advertisement -