ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র জয়ের পর বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর) নামক একটি মানবাধিকার সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ৪ মে থেকে ৭ মে-র মধ্যে রাজ্যের অন্তত ৮টি জেলায় অন্তত ৩৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কোচবিহার এবং উত্তর ২৪ পরগনা (প্রতিটি জেলায় ৭টি করে ঘটনা)। এছাড়া কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫টি করে এবং হাওড়া ও মুর্শিদাবাদেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সহিংসতায় অন্তত ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে কোচবিহারের গোসাইনিমারিতে একটি মসজিদ রক্ষা করতে গিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, মুসলিম মালিকানাধীন সম্পত্তি, মসজিদ, গবাদি পশুর হাট এবং মাংসের দোকানগুলো পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্তত ৫৪টি সম্পত্তি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বারাসাতে মুসলিমদের হোটেল গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নন্দিনা ও আবুত্রা গ্রামে ঘরবাড়ি ভাঙচুরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাটি দাবি করেছে যে, সহিংসতার ধরণ হিসেবে কেবল মারধর নয়, বরং ‘অর্থনৈতিক অবরোধ’ এবং ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে ‘এন পাড়া মসজিদ বাড়ি রোড’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নেতাজি পল্লী রোড’ এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা উদ্যান’-এর নাম বদলে ‘শিবাজী উদ্যান’ করার চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু জায়গায় বিজেপি-র বিজয় মিছিলে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এমনকি আজাদ হিন্দ কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরতে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগও এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এপিসিআর জানিয়েছে, মূলধারার গণমাধ্যমে এই সংবাদগুলো যথাযথভাবে উঠে না আসায় তারা স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট তৈরি করেছে।