মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কাদির নামের একজন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় উপজেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, মো. মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে জুড়ী উপজেলায় কর্মরত থাকার সুবাদে হাকালুকি হাওর ও মৎস্য খেকোদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে হাওর লুটপাট করে আসছেন। তিনি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে অর্থ লোপাট করেছে। হাওরে বিভিন্ন বিলে সরকারি জলমহাল নীতিমালা অমান্য করে সেচ মেশিন দিয়ে বিল শুকিয়ে মাছ আহরণের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে আসছেন। বছরের পর বছর হাকালুকি হাওরের চাতলা, তুরল ও নাগুয়াবিলসহ বিভিন্ন বিলে প্রকাশ্যে ১০ থেকে ১৫টি মেশিন দিয়ে বিল শুকিয়ে মৎস্য আহরণ করার অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নেয়নি কোনো ব্যবস্থা। যার ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে তা পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মাছ আহরণ এবং নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে বিল সেচে মাছ শিকারের মতো কার্যক্রম চলমান থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
তদুপরি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের সহযোগিতায় ইজারাকৃত বিলগুলোতে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, সেচ পাম্প মেশিন ব্যবহার করে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ ধরা এবং প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মতো অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে একদিকে যেমন সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে হাওরের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। যা পরিবেশ ও স্থানীয় মৎস্যসম্পদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিওর মাধ্যমে জুড়ীতে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে ব্যাপক ও নিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুঠোফোনে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি এসব অভিযোগের বিষয়ে অবগত নই।
মৌলভীবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রুবেল মাহমুদ জানান, মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।