আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পুর্বাভাসে সিলেট অঞ্চলজুড়ে বন্যা ও জলাবদ্ধতার শঙ্কার খবরে সিলেট নগরবাসীর চোখে মুখে এখন উদ্বেগ উৎকন্ঠার ছাপ। ২০১৮ সাল থেকে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রায় প্রতি বছরই সিলেট নগর ও আশেপাশের ২০ লাখ মানুষের দুর্ভোগ দুর্গতির যেনো অন্ত নেই। এ যেনো নগরবাসীর এক নিয়তি হয়ে দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে গত বছর ২০২৫ পর্যন্ত মারাত্মক জলাবদ্ধতায় নগরবাসী কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েন। এই দুর্গতির হাত থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষা পায়নি লাখ লাখ মানুষ।

এদিকে গত ১০ বছর ধরে সিলেট নগরকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে একটা মেগা প্রকল্প

ফাইলবন্দী হয়ে পড়েছিল। এটা এই সরকারের আমলে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। ‘সিলেট নগরের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প’ নামের এই মেগা প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। এটি বিদেশী সহায়তা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রকল্প বলে জানিয়েছেন সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। কয়েকটি পেইজে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আগামী শনিবার সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট নগরীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সুরমার দুই তীরে বাঁধ, চাঁদনিঘাট এলাকায় স্লুইসগেট ও ১৫ কিলোমিটারজুড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজের উদ্বোবন করবেন বলে জানিয়েছে সিসিক। এ সম্পর্কে প্রস্তুতি দেখতে রোববার সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এপ্রিলের শেষ থেকে মে জুন সিলেটে বন্যা ও জলাবদ্ধতার মৌসুম। গত বছরের মে মাসজুড়ে সিলেট নগরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনে মারাত্মক দুর্গতি ও ভোগান্তি দেখা দেয়। পানিতে ভেসে যায় এবং নষ্ট হয়ে যায় বাসা বাড়ির আসবাবপত্রসহ কোটি কোটি টাকার নানা ধরনের সম্পদ। সিলেটে গত দু’দিন থেকে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত আছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিলেটে দিনভর মাঝারি ও ভারী বর্ষণে নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ভারী বৃষ্টিপাত চলছিল। বৃষ্টিপাতের সাথে ঝড় ও বজ্রপাতের গর্জন নগরবাসীকে আতঙ্কিত করে তোলে।

গত রোববার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

সিলেট আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ শাহ সজিব আহমেদ নয়া দিগন্তকে জানান, আজ মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভারী ও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে সিলেটে বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারী গোয়াইনসহ সকল নদীর পানি বাড়ছে।

পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস নয়া দিগন্তকে জানান, নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে এবং উজানের ঢল নামলে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে।

বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির নয়া দিগন্তকে বলেন, সিলেট সিটিকে একটি ‘ভাইব্রেন্ট’ বা প্রাণবন্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পিত অবকাঠামো ও উন্নয়ন দরকার।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জলাবদ্ধতা শুধু সাময়িক ভোগান্তি নয়, দীর্ঘমেয়াদে এটি বড় সঙ্কটে রূপ নিতে পারে। আজকে একদিনের বৃষ্টির পানি যদি ১৫ দিনেও না নামে, তাহলে সেটি কোনো টেকসই পরিস্থিতি নয়। এজন্য উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিকল্পিত সড়ক অবকাঠামোর ওপর জোর দেন তিনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উজানে ভারতের পাহাড়ী অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুরমা-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বন্যার এই শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

জানা গেছে, সিলেটের উজানে ভারতের গোয়াহাটি শহর এ সপ্তাহে বন্যা ও ঢলের তোড়ে ভেসে যায়। শিলচর থেকে প্রকাশিত বাংলা দৈনিক সাময়িক প্রসঙ্গ জানিয়েছে, পাহাড়ের ঢল ও ভারী বর্ষণে গোয়াহাটিসহ আসাম অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিলেটের উজানে কয়েক দিন থেকে লাগাতার ভারী বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আসাম মেঘালয়জুড়ে ভারী বৃষ্টিপাত নামলে তা পাহাড়ী ঢল আকারে সিলেটের দিকে ধেয়ে আসতে পারে।

পাউবো জানিয়েছে, সুরমা-কুশিয়ারা সারী গোয়াইন ও মনু-ধলাই নদীসমূহের পানির সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ সময় উজান থেকে নামতে পারে পাহাড়ি ঢল। এ কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণার নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।

এ দিকে, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে সময়ের চাকা যেন কৃষকের প্রতিকূলে ঘুরছে। অতিবৃষ্টি আর বজ্রপাতের আতঙ্ক পেরিয়ে যখন ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর কৃষকরা, তখনই নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার শঙ্কা। নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল হারানোর ভয়ে আধা-পাকা ধানই কেটে ঘরে তুলছেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের কৃষকদের একের পর এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মে মাসের শুরু থেকে জলাবদ্ধতা এবং গত ১৮ এপ্রিল বজ্রপাতে পাঁচ কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় হাওরে ধান কাটা ব্যাহত হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এখন সুরমা, কুশিয়ারা ও বৌলাইসহ প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় হাওরজুড়ে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews