পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝিতে এসে রাজধানীর বাজারে তিন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পণ্যগুলো হলো—সয়াবিন তেল, চিনি ও ব্রয়লার মুরগি। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দাম রমজানের শুরুতে বাড়লেও পরে কমে যায়। এখন আবার দাম বেড়েছে। আর চিনির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম থাকলেও গতকাল পণ্যটির দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে দাম কমার তালিকায় রয়েছে—চাল, মসুর ডাল ও পেঁয়াজ। অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ছে। এছাড়া, রমজানের মাঝামাঝিতে এসে অনেকে ঈদের জন্য বাড়তি কেনাকাটা করছেন। ফলে কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ডিলার পর্যায়ে দাম কিছুটা বাড়তি থাকলেও ভোক্তা পর্যায়ে বাড়েনি। তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। গতকাল বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়, যা গত সপ্তাহে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঈদের আগে সয়াবিন তেলের কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এজন্য বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। সরকারের উচিত এখনই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া। তা না হলে ঈদের আগে সয়াবিন তেল নিয়ে বাজারে সমস্যা হতে পারে।

দাম বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি জাতের মুরগির। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়। আর সোনালি জাতের মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে চিনির দামও। খোলা চিনি কেজিতে ২ টাকা বেড়ে তা ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপণন সংস্থা টেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্যগুলোর দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, পণ্যগুলোর দাম বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

শান্তিনগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুর বলেন, রমজান শুরুর পর মুরগির চাহিদা কমে গিয়েছিল। এজন্য দামও কমে যায়। কিন্তু এখন আবার চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, ঈদের আগে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এদিকে মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের দাম উলটো কমেছে। বর্তমানে ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা আর বাদামি ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খামারি পর্যায়ে আরো কম দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বরকতপুর এলাকার আলম লেয়ার ফার্মের স্বত্বাধিকারী আলম মণ্ডল ইত্তেফাককে জানান, খামার থেকে তারা প্রতি ডজন সাদা ডিম ৬৬ টাকা ও বাদামি ডিম ৭৮ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে তাদের ব্যাপক লোকসান হচ্ছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews