টানা পঞ্চম জয়ে বার্সেলোনার সাথে পয়েন্টের ব্যবধানে কমিয়ে আনলো রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। চোটের ছোবলে রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণভাগের অবস্থা আগে থেকেই নাজুক। আঘাত লেগেছে মাঝমাঠ ও আক্রমণেও। পারফরমেন্সে তারই প্রভাব পড়লেও প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জয় নিয়েই ফিরেছে রিয়াল। কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং চোটের কারণে জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোকে ছাড়াই খেলতে নামে রিয়াল। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ তিন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে বেশ ভুগতে দেখা যায় দলটিকে। ম্যাচের প্রথমদিকে অবশ্য কারো আক্রমণেই খুব বেশি ধার ছিল না। এর মাঝেই ভালো দুটি সুযোগ পান এমবাপ্পে। তবে চ্যালেঞ্জের মুখে দুর্বল শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি তিনি। প্রথমার্ধে শত চেষ্টা করেও গোলের দেখা পায়নি রিয়াল। বিরতি থেকেই ফিরে ভ্যালেন্সিয়াকে আরো চেপে ধরে তারা। শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটে কাঙ্খিত গোলের দেখা পায় রিয়াল। ডিফেন্ডার ডিন হাউসেনের পাস পেয়ে ডি বক্সে ঢুকে একজনকে কাটিয়ে দারুন শটে গোল করেন আলভারো ক্যারেরাস। এরপর গোল বাড়াতে বেশকটি আক্রমন শানায় রিয়াল। অবশেষে যোগ করা সময়ে দিয়াসের পাসে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পের গোল হলো ২৩টি। লিগে টানা সপ্তম জয়ের পর, ২৩ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। সমান ম্যাচে ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ২৩ ম্যাচে দশম হারের পর, ২৩ পয়েন্ট নিয়ে ১৭তম স্থানে আছে ভ্যালেন্সিয়া।
এদিকে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ঘরের মাঠে ম্যান সিটির কাছে হারলো লিভারপুল। প্রথমে গোল করে এগিয়ে থেকেও লিড ধরে রাখতে পারেনি শিরোপাধারীরা। হারের শঙ্কায় পড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে যোগ করা সময়ে আর্লিং হালান্ডের সফল স্পট কিকে জয়ও তুলে নিল ম্যান সিটি। রোববার অ্যানফিল্ডে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে পেপ গার্দিওয়ালার দল। সিটির মাঠে নভেম্বরে প্রথম লেগে ৩-০ গোলে উড়ে গিয়েছিল লিভারপুল। ঘরের মাঠে সম্ভাবনা জাগিয়েও প্রতিশোধ নিতে পারল না তারা। প্রথম ২৫ মিনিটে একরকম কোণঠাসা হয়ে থাকে লিভারপুল। ব্যস্ত সময় কাটে তাদের রক্ষণ ও গোলরক্ষক অ্যালিসনের। অন্যপাশে এই সময়ে একদমই নির্ভার ছিলেন সিটি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। প্রথমার্ধে নিজেদের খুঁজে ফেরা ও তিনটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিতে পারা লিভারপুল বিরতির পর যেন গা ঝারা দিয়ে মাঠে নামে। ৭৪ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বুলেট গতির ফ্রি কিকে দুর্দান্ত এক গোল করেন ডোমিনিক সোবোসলাই। চলতি মৌসুমে এই নিয়ে সরাসরি ফ্রি কিকে চারটি গোল করলেন হাঙ্গেরীর ফরোয়ার্ড। লিভারপুলের জার্সিতে ২০১২-১৩ মৌসুমের পর যা সর্বোচ্চ। নির্ধারিত সময়ের ছয় মিনিট বাকি থাকতে বার্নাদো সিলভার দারুণ গোলে সমতায় ফেরে সিটি। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে কপাল পোড়ে লিভারপুলের। ডি বক্সে ম্যাথেউস নুনেসকে ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক অ্যালিসন ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সিটি। সফল স্পট কিকে দলের জয় নিশ্চিত করে দেন হালান্ড। প্রিমিয়ার লিগে তিন ম্যাচ পর জালের দেখা পেলেন নরওয়ের তারকা। আসরে ২৫ ম্যাচে তার মোট গোল হলো ২১টি। ২৫ ম্যাচে ১৫ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। সমান ম্যাচে ৫৬ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় আর্সেনাল। ষষ্ঠ স্থানে থাকা লিভারপুলের পয়েন্ট ২৫ ম্যাচে ৩৯।
বুন্দেস লিগায় লুইস দিয়াজের হ্যাটট্রিকে দুই ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখলো বায়ার্ন মিউনিখ। রোববার অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারিনায় বুন্দেস লিগার ম্যাচে হফেনহেইমকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন। মাচের সবগুলো গোলেই জড়িয়ে দিয়াজের নাম। সপ্তদশ মিনিটে হফেনহাইমের ডি বক্সে দিয়াসকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন নাইজেরিয়ার ডিফেন্ডার কেভিন। স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন হ্যারি কেইন। ৪৫ মিনিটে কেইনের দ্বিতীয় গোলটিও আসে পেনাল্টি থেকে। কেইনের জোড়া গোলের পর দুই অর্ধ মিলিয়ে তিন গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড দিয়াজ। গত গ্রীষ্মের দলবদলে লিভারপুল ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়া দিয়াজ জার্মান দলটির হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করলেন। বুন্দেসলিগায় ২০ ম্যাচে তার মোট গোল হলো ১৩টি। এবারের বুন্দেসলিগায় ২০ ম্যাচে ২২ গোল করে তালিকার শীর্ষে আছেন কেইন। ২১ ম্যাচে ১৭ জয় ও তিন ড্রয়ে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বায়ার্ন। তাদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে বরুশিয়া ডর্টম্ন্ডু। আসরে পঞ্চম হারের পর ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে হফেনহাইম।
এদিকে, ফরাসি লিগ ওয়ানের শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে পিএসজি। অলিম্পিক মার্সেইকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে ফিরল লুইস এনরিকের দল। লিগ ওয়ানে রোববার রাতে ঘরের মাঠে মার্শেইকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। জোড়া গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে। দ্বিতীয়ার্ধে ফাকুন্দো মেদিনার আত্মঘাতী গোলের পর, পিএসজির শেষ দুটি গোল করেন খাভিচা কাভারাৎস্খেলিয়া ও লি কাং-ইন। আগের দিন পিএসজিকে টপকে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠেছিল লেঁস। টানা সপ্তম জয়ে হারানো জায়গা ফিরে পেল পিএসজি। ২১ ম্যাচে ১৬ জয় ও তিন ড্রয়ে শিরোপাধারীদের পয়েন্ট হলো ৫১। সমান ম্যাচে ২ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে লেঁস। ৪২ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে লিওঁ, ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে মার্সেই।