ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শিক বয়ানকে আরো শক্তিশালী করেছে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ও শিক্ষাবিদ নাদের হাশেমি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাশেমির মতে, যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার ঘটনা ইরানের দীর্ঘদিনের সরকারি বয়ানের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইসলামী প্রজাতন্ত্র শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে নিজেদের অন্যতম আদর্শ হিসেবে তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নিজের আদর্শের পক্ষে দৃঢ় থাকার মধ্য দিয়েই নিহত হয়েছেন। ফলে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও রাজনৈতিক বয়ানকে আরো শক্তিশালী করবে।

হাশেমির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় নিহত হওয়ার প্রায় ৪ মাসের অধিক সময় পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া ইরানের জন্য কূটনৈতিক ও প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার ভাষ্য, এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে ইরানের ‘সফট পাওয়ার’ বা নরম কূটনৈতিক প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ অনেকের কাছে ইরান এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিভাত হবে, যার সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরোধিতার কারণে প্রাণ দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, গাজায় চলমান সংঘাত ও ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যে আবেগঘন পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তার মধ্যেই খামেনির মৃত্যু ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ইরানের সমর্থকদের মধ্যে সরকারের আদর্শিক অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে পারে।

নাদের হাশেমির ভাষায়, “এই সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করার জন্য এটি ইরানের সামনে একটি বড় সুযোগ।”

সূত্র: আল জাজিরা



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews