দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ইরাকের রাজনীতিতে নতুন মোড় এসেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি শিয়া জোটের প্রার্থী আলি আল-জাইদিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
এর আগে সোমবারই আলি আল-জাইদিকে শিয়া দলগুলোর জোট ‘কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক’–এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এই জোট বর্তমানে ইরাকের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটল।
প্রথমদিকে কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের প্রার্থী ছিলেন ইরাকের সাবেক দুবারের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি। তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেন। ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, মালিকি প্রধানমন্ত্রী হলে ইরাককে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
নুরি আল-মালিকি ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা ওয়াশিংটনের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কড়া অবস্থানের পর শিয়া জোট তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
এরপর বিকল্প হিসেবে আলি আল-জাইদিকে সামনে আনা হয়, যা রাজনৈতিক সংকট নিরসনের পথ খুলে দেয়। এখন প্রধানমন্ত্রী-নির্ধারিত আল-জাইদির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—দ্রুত একটি সরকার গঠন করা এবং দেশের ভেতরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে