জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ছিল বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ। ছাপা পত্রিকাগুলোতে ওই দিনের খবর প্রকাশ হয় পরদিন শুক্রবার। নয়া দিগন্তর শুক্রবারের পত্রিকাটি ছিল সংসদের খবরে ভরপুর। প্রধান প্রতিবেদনের শিরোনাম— ‘সূচনায় প্রাণবন্ত, উত্তাপে শেষ’। এতে জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের পুরো ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রথম দিনের অধিবেশনে সাংবিধানিক কিছু কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়েছে। গঠন হয়েছে সভাপতিমণণ্ডলী। নেয়া হয়েছে শোকপ্রস্তাব। সংসদীয় কমিটি গঠন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বহু অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিনে এতগুলো কাজ শেষ হওয়া ইতিবাচক।

আলোচনা ছিল ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছিল, বিরোধী দলের কাউকে এই পদ দেয়া হতে পারে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ নিতে অনীহা দেখায় বিরোধী দল। কেবল ডেপুটি স্পিকার নিয়ে সব দায়ভার মাথায় তুলে নিতে চায় না তারা। সংসদে কোনো পদ নেয়া মানে কেবল মর্যাদা পাওয়া না; বরং দায়িত্বও নেয়া। যদি ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল গ্রহণ করতো, তাহলে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় তাদেরও এক ধরনের নৈতিক দায় থাকতো। কারণ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে সরকারি দলের পক্ষে। নিয়ম অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকারকে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতার সিদ্ধান্তই সমর্থন করতে হবে। ফলে বিরোধী দল হয়তো ভেবেছে, সেই অবস্থানে গেলে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান জটিল হতে পারে। শেষে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন সরকারি দল থেকেই। এ নিয়ে বিরোধী দলকেও উচ্চবাচ্য করতে দেখা যায়নি। তবে এই দুই পদে যাদেরকে বসানো হয়েছে, এর নেপথ্যে কোন বিষয় কাজ করেছে, এ নিয়ে কারো কারো প্রশ্ন আছে। স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

নতুন স্পিকার মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন সংসদে। সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি। প্রথম পৃষ্ঠায় স্পিকারের বক্তব্য নিয়ে এক কলামে সংবাদ পরিবেশন করেছে নয়া দিগন্ত। সেই সাথে ১৪ নম্বর পৃষ্ঠা অর্থাৎ খেলার পাতায় একটি শিরোনাম করা হয়েছে— ‘স্ট্রাইকার থেকে সংসদের স্পিকার’। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ফুটবল মাঠের স্ট্রাইকার ছিলেন। এখন সংসদের শৃঙ্খলা রাখার দায়িত্ব তার কাঁধে। খেলোয়াড়ি জীবনে নেতৃত্ব ও কৌশলের পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কিন্তু রাজনীতিতে তার অতীত নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে। সেই প্রশ্নগুলো থাকার কথা, থেকে যাবে। কিন্তু এখন তিনি যদি যথাযথভাবে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করতে পারবেন।

জাতীয় সংসদের চতুর্থ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা গোলাম হাফিজ। তিনি বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চাচা। তিনি যখন স্পিকার ছিলেন, তখন দেশের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই সংসদের কার্যক্রম খুব বেশি আলোচিত না হলেও একটি বিষয় স্পষ্ট ছিল— কার্যপ্রণালী বিধি যথাসম্ভব মেনে চলা হয়েছিল। তখন প্রতিটি সেশন ছিল ফলপ্রসূ। বর্তমান স্পিকারও সংসদকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখবেন এমনটিই অনেকে আশা করছেন।

প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ছিল ইতিবাচক। তিনি জাতীয় সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে চেয়েছেন। বলেছেন, সংসদ যদি সত্যিই রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সংসদের ভেতরেই সম্ভব।

কিন্তু সেটি বাস্তবে দেখানোর জন্য বিরোধী দলের মতামতের গুরুত্ব দিতে হবে সরকারি দলকে। সংসদে মুক্ত আলোচনা, মতবিরোধ এবং যুক্তিতর্ক থাকবে— এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বিরোধী দলের বক্তব্য যদি গুরুত্ব না পায়, তাহলে সংসদ প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলে। আমাদের দেশে নিকট অতীতেই এমন নজির আছে। জাতীয় সংসদে নায়িকা, গায়িকাদের জলসা বসাতে দেখা গেছে। যেখানে প্রতি মিনিট সংসদ চালাতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, সেখানে কেবল প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে কাটিয়ে দেয়া হতো গোটা সেশন। সংসদ গল্প-গুজব বা ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা হতে পারে না। যেমনটি দেখেছি অতীতে। অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্কে যেন সংসদের সময় নষ্ট করা না হয়। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশার কথা শুনিয়েছেন। সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করার দায়িত্ব তার ওপরই বেশি।

এই দায়িত্ব বিরোধী দলের ওপরও। বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন। সরকারকে সহযোগিতা করবেন। একই সাথে সমালোচনাও করবেন। প্রথম অধিবেশনে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল তারা যেন এখানে বক্তব্য রাখতে না পারে। রাষ্ট্রপতিকে অপরাধী বলেছেন ডা: শফিক। তিনি অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান নেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সেই সময়ের কোনো খুনের বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ করেননি। দ্বিতীয় অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন। এতে তিনি জাতির সামনে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। কোনো মিথ্যাবাদী দেশের রাষ্ট্রপতি থাকতে পারে না।

নয়া দিগন্তের আরেক প্রতিবেদনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, সংসদকে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হবে। কারণ এই সংসদ শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই কোনো ফ্যাসিস্ট বা তাদের দোসর যাতে এখানে বক্তব্য দিয়ে সংসদকে কলুষিত করতে না পারে স্পিকারের কাছে সেই আহ্বান জানান নাহিদ।

কিন্তু জাতীয় সংসদে ভাষণ দিতে দেখা গেছে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে। তার ভাষণ ঘিরে সংসদজুড়ে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেখানো হয়েছে নেতিবাচক প্ল্যাকার্ড। স্লোগান তুলেছে বিরোধীদলের সদস্যরা। পরে ওয়াক আউটও করেন তারা। সংসদীয় রাজনীতিতে ওয়াক আউট নতুন কিছু নয়। এটি সংসদ-স্বীকৃত রাজনৈতিক প্রতিবাদের পদ্ধতি। এটিকে গণতান্ত্রিক আচরণের একটি অংশ হিসেবেই দেখা যায়।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে যেসব বলেছেন, সেগুলো নিয়ে দেশজুড়ে হাস্যরসও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ আলোচনা করছেন, রাষ্ট্রপতি শব্দটি নিয়েও। রাষ্ট্রপতি মানে রাষ্ট্রের পতি বা অভিভাবক। ভাষাতাত্ত্বিকভাবে দেখলে বিষয়টি একটু ভিন্ন। রাষ্ট্র যদি নারীবাচক হয়, তাহলে তার পতি থাকতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র তো কোনো লিঙ্গবাচক সত্তা নয়। ফলে ‘রাষ্ট্রপতি’ শব্দটা নিয়েও বিতর্ক হতে পারে। অনেকে রাষ্ট্রপতি না বলে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। কেউ যদি বলেন এটি বিদেশী শব্দ, তাহলে বলা যেতে পারে, আমরা চেয়ারকে ‘কেদারা’ না বলে বিদেশী শব্দ ‘চেয়ার’ই ব্যবহার করি। আসলে ভাষা সময়ের সাথে বদলায়, নতুন শব্দ গ্রহণ করে। এতে ভাষা গতি পায়। তাই ‘প্রেসিডেন্ট’ বললেও তাতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।

মহামান্য প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে পুলিশকে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল। এই বক্তব্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ওই সময়ও তো তিনি দায়িত্বে ছিলেন। তখনো কি এই কথা বলেছিলেন? যদি না বলে থাকেন, তাহলে এখন বলার কারণ কী? তার প্রতিটি কথাই সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেই সাথে সতর্ক থাকতে হবে ফ্যাসিবাদের সহযোগীদের ব্যাপারেও। একই দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশ করেছে নয়া দিগন্ত, আট শতাধিক বন্দীকে মুক্তি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু একই সাথে সতর্কতাও প্রয়োজন। এই সুযোগে যেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও প্রকৃত অপরাধীরা বেরিয়ে না যায়। মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা জরুরি।

নয়া দিগন্তর প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছে অভূতপূর্ব একটি ছবি। এতে দেখা গেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ গ্যালারিতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সাথে বসে আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন তিনি। এই দৃশ্যটি প্রতীকী অর্থে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে একটি সৌহার্দ্যরে পরিবেশের ইঙ্গিত আছে এতে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সঙ্ঘাত ও বিভাজন দেখে অভ্যস্ত দেশবাসী এমন দৃশ্য দেখে নতুন করে আশাবাদী হবেন।

অধিবেশনে শোকপ্রস্তাব গ্রহণের ঘটনাটিও উল্লেখযোগ্য। নয়া দিগন্তর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ অনেকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি, ফেলানী এবং অন্যায়ভাবে ফাঁসির শিকার হওয়া জামায়াতের সাবেক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে, জাতির ইতিহাসে যারাই অবদান রাখেন, তাদেরকে স্মরণ করার মানসিকতা আমাদের আছে। গণতন্ত্রে প্রতিপক্ষকে সম্মান করার সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে বিরোধী দলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে তারা ছায়া সরকারের কথা বলেছেন। ধারণাটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে মানুষ। আশা করা যায়, সরকারি দলের কোনো পদক্ষেপের ওপর আলোচনা বা সমালোচনা যারা করবেন, তারা যেন সেই বিষয়ে হোমওয়ার্ক করে আসেন। অর্থাৎ— যিনি যে বিষয়ে কথা বলবেন, তাকে সেই বিষয় সম্পর্কে জানতে হবে। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা করলে এমন কেউ করবেন, যিনি বিষয়টি ভালো বোঝেন। অর্থনীতি নিয়ে সেই বিষয়ে প্রশিক্ষিত কেউ কথা বলবেন। এতে সংসদের আলোচনা আরো ইতিবাচক হবে। সংসদ সদস্যরা তাদের এলাকার সমস্যার কথাও বলবেন; কিন্তু মনে রাখতে হবে, সংসদ মূলত আইন প্রণয়নের জায়গা। গণতন্ত্র মানে শুধু কথা বলা নয়, দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা।

নয়া দিগন্তের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ হওয়া আরো একটি ছোট খবর নিয়েও ভাবতে হবে আমাদের। খবরের শিরোনাম ‘দেশে কিডনি রোগীর হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে বেশি’। চিকিৎসা-বিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের একজন কিডনি রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশে এই হার দ্বিগুণেরও বেশি। এর প্রধান কারণ, অসচেতনতা এবং রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত না হওয়া। শুক্রবারের পত্রিকার সপ্তম পাতায় আরেকটি সংবাদ আছে— পাঁচ বছর ধরে বিকল পড়ে আছে একটি সরকারি হাসপাতালের লেজার লিথোট্রিপসি মেশিন। এতে রোগীরা বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তৃতীয় পাতায় একটা সংবাদের শিরোনাম ‘কিডনি প্রতিস্থাপনের ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছিল কোটি কোটি টাকা’। এই তিনটি সংবাদ আমাদের একটি বড় বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয়। স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। সংসদে যত বড় বড় রাজনৈতিক বিতর্কই হোক, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনের প্রশ্নগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাঁচ মৌলিক অধিকারের মধ্যে একটি খাদ্য। এ কারণে দ্রব্যমূল্যের বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রব্যমূল্য অনেক সময় রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। উদাহরণ দেখানো যায় আমেরিকা থেকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনে জিতবেন কি-না এ নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার কয়েক মাস আগে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এক আমেরিকান নারী বলে দিয়েছিলেন, ‘এবার ট্রাম্পই জিতবেন’। কারণ ছিল দ্রব্যমূল্য। জো-বাইডেনের সময় ১০ ডলারের রুটি কিনতে হতো ২০ ডলার দিয়ে। কেবল এটিই ছিল ট্রাম্পের বিজয়ের ম্যাজিক। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের চাইতে বাইডেনের ইমেজ খারাপ ছিল না। তাছাড়া ক্যাম্পেইনে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন কমলা হ্যারিস। স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সাথে নিয়ে তার পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন বিল ক্লিনটন। কমলার ক্যাম্পেইনে কাজ করেছেন বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামা দম্পতি। প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশ্যে জানিয়েছিল, তারা কমলাকে সমর্থন করে। কিন্তু প্রতিদিনের বাস্তবতার কাছে হেরে যেতে হয় কমলাকে। মূলকথা, দ্রব্যমূল্যের চাপ মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে সরকারের জন্য বড় সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় দেখা গেছে, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় এসব সিন্ডিকেট সুযোগ পেয়েছে। এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে না পারলে সাধারণের আস্থা অর্জন কঠিন হবে। অতএব, সংসদের উচিত দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। কারণ গণতন্ত্রের চূড়ান্ত বিচারক শেষ পর্যন্ত জনগণই।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews