২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পবিত্র নগরী মক্কায় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো- তিনটি দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা বাকি দুই দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং যৌথভাবে তা প্রতিরোধ করা হবে। চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীর এই সংমিশ্রণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন নির্দেশ করে। এই চুক্তি আঞ্চলিক সামরিক স্বনির্ভরতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে বিশাল বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।

বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ সামরিক বাজেট সৌদি আরবের; ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে সৌদি আরব বিশ্বে সাধারণত চতুর্থ অবস্থান করে (যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার ঠিক পরেই)। তুরস্কের সামরিক বাজেট ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তারা নিজস্ব প্রযুক্তি ও দেশীয় অস্ত্র তৈরিতে বরাদ্দ বেশি বাড়িয়ে নিজেরাই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া যান এবং যুদ্ধজাহাজ যৌথভাবে তৈরি ও প্রস্তুত করছে। তুরস্ক তাদের অস্ত্র বিশ্ববাজারে বিক্রি করে সাত বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বরাদ্দ প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাকিস্তান চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগে, জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান উৎপাদন করছে। পাকিস্তান একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তাদের বিশাল ও অভিজ্ঞ পদাতিক ও বিমানবাহিনী আছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানদের সমন্বিত রাজনৈতিক-সামরিক কাউন্সিল, যৌথভাবে আধুনিক সমরাস্ত্র উৎপাদন এবং প্রযুক্তির আদান-প্রদানের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন শক্তির মেরুকরণ তৈরি করেছে। তিন দেশের সম্মিলিত সামরিক বাহিনীতে সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এদের বহরে আছে পাঁচ হাজার ৬০০টির বেশি ট্যাংক এবং এক হাজার ১০০টিরও বেশি আধুনিক রণতরী, যুদ্ধবিমান, ড্রোন প্রযুক্তি ও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের সক্রিয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এই চুক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত নিরাপত্তা ও গভীরতা প্রদান করে।

চুক্তির মূল সুর প্রতিরক্ষামূলক
তিনটি দেশই বর্তমানে বহুমুখী ও সরাসরি নিরাপত্তাজনিত চাপের মুখে রয়েছে, যা তাদের আগ্রাসী নীতি গ্রহণ থেকে বিরত রেখে নিজস্ব সীমান্ত সুরক্ষিত করতেই বেশি বাধ্য করবে। সৌদি আরবের আকাশসীমা ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো সুরক্ষায় বিদ্যমান হুমকি মোকাবেলা চুক্তির অন্যতম ভিত্তি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন-মিসাইল হামলা, ইরানের কৌশলগত চাপ এবং লোহিত সাগরে জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখাই হলো সৌদি আরবের অগ্রাধিকার। পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি (যেমন-ঐছ-৯) এবং সমন্বিত রাডার-ব্যবস্থা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে আকাশপথে সুরক্ষা দিতে অত্যন্ত কার্যকর। চুক্তিটির লক্ষ্য বাইরে গিয়ে আক্রমণ করা নয়; বরং ভূখণ্ডকে ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ বানিয়ে রাখা।

তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগরে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সাথে সীমানা বিরোধ এবং সিরিয়া-ইরাক সীমান্তে কুর্দিভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন তুরস্ককে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে একা হয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। এর ফলে তুরস্ক ভূমধ্যসাগর ও দক্ষিণ সীমান্তে নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান শক্ত রেখে ন্যাটোর ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমাতে পারবে। পাকিস্তান দ্বিমুখী সীমান্ত চাপে অস্থির হয়ে পড়েছে। পূর্ব সীমান্তে ভারতের দীর্ঘদিনের বিশাল সামরিক চাপ এবং পশ্চিম সীমান্তে টিটিপি ও তালেবান-সংক্রান্ত অস্থিরতা। সৌদি আরবের অর্থায়ন এবং তুরস্কের অত্যাধুনিক ডিফেন্স টেকনোলজি পাকিস্তানকে দু’টি সীমান্তে কার্যকর ‘প্রতিরোধমূলক শক্তি’ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

তিনটি দেশ একত্রে শক্তিশালী হলেও যৌথভাবে কোনো দেশের ওপর আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করার সম্ভাবনা খুবই কম। এই চুক্তিটি কোনো নতুন যুদ্ধ শুরু করার জন্য নয়। সৌদি আরব তাদের ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়নের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়, বড় ধরনের কোনো যুদ্ধ নয়। এত দিন সৌদি আরব পুরোপুরি মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। চুক্তির পর সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্কের ড্রোন-বিরোধী ও মিসাইল ডিফেন্স প্রযুক্তি সমন্বয় করে নতুন বলয় তৈরি করতে সক্ষম হবে। এতদিন পাকিস্তানকে অস্ত্র কেনার জন্য ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন যৌথ উৎপাদনের ফলে কম খরচে আধুনিক অস্ত্র মোতায়েনের সুযোগ লাভ করবে। এর আগে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো এককভাবে চাপ সৃষ্টি করতে পারত। এখন পাকিস্তানের পারমাণবিক ও বিশাল সামরিক সক্ষমতার ছাতা জোটের অন্য সদস্যদের মানসিকভাবে সুরক্ষা দেবে।

পশ্চিমাদের ওপর নির্ভরতা হ্রাস
মধ্যপ্রাচ্য ও এশীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাজনিত অস্পষ্টতা ও শর্তসাপেক্ষ নীতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এই চুক্তি আঞ্চলিক সমস্যা আঞ্চলিক শক্তি দিয়েই সমাধানের পথ সুগম করবে। মক্কা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের প্রতিষ্ঠিত ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তামূলক ভূখণ্ডে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন নির্দেশ করে। এই ঘটনা মার্কিন নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ও নীতির ওপর আঞ্চলিক মিত্রদের আস্থার ঘাটতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পিছু হটার দৃশ্যমান ফলাফল হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত। কিন্তু গত এক দশকে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনা মার্কিন নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্যতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আবকাইক ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে হুথি ড্রোন ও মিসাইল হামলার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক শক্তিশালী সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এটি রিয়াদকে বার্তা দেয়, আক্রান্ত হলে ওয়াশিংটন স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে নামবে না।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে তড়িঘড়ি করে কাবুল ছেড়েছিল, তা আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে সতর্ক করে দেয়, ওয়াশিংটনের কৌশলগত অগ্রাধিকার যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। মার্কিন কংগ্রেসে মানবাধিকার ও ইয়েমেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে প্রায়ই সৌদি আরব বা তুরস্কের কাছে উন্নত সমরাস্ত্র (যেমন- ঋ-৩৫ বা প্রিসিশন গাইডেড মিউনিশন) বিক্রি স্থগিত করা হয়। মিত্রদের জন্য এই অনিশ্চয়তা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ছিল। মধ্যপ্রাচ্য এখন আর এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বলয়ে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ‘আব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইসরাইলকে কেন্দ্রে রেখে একটি আরব-ইসরাইল নিরাপত্তা জোট গঠন করতে। কিন্তু সৌদি আরব ইসরাইলের ওপর নির্ভর না করে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে জোট বেঁধে যুক্তরাষ্ট্রের সেই নকশাকে পাশ কাটিয়ে গেছে।

নেতিবাচক ও ঝুঁকিপূর্ণ দিক
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ প্রতিবেশীদের উদ্বেগ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে। ইসরাইল ও ভারত ইতোমধ্যে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই চুক্তিকে তাদের নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তুরস্কের আধুনিক বিমান ও ড্রোন প্রযুক্তি, পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি এবং সৌদি আরবের বিপুল অর্থনৈতিক সক্ষমতা একত্রিত হওয়াকে ইসরাইল নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জন্য একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি মনে করে। ইসরাইলি ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের কৌশলবিদরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এই ব্লককে কাউন্টার করতে ইসরাইলকে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। তুরস্কের প্রভাব কমাতে গ্রিস ও সাইপ্রাসের সাথে নিজেদের ভূমধ্যসাগরীয় কৌশলগত অ্যালায়েন্স আরো জোরদার করতে চায় ইসরাইল। ভারত ও আমিরাতের সাথে যৌথ নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সংযোগ দ্রুত বৃদ্ধি করতে চায়, যাতে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে একটি কাউন্টার-ব্যালান্স তৈরি করা যায়।

পাকিস্তান ও তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক আগে থেকেই ভারতের নজরদারিতে ছিল। সৌদি আরবের এতে যুক্ত হওয়া ভারতের জন্য কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি করেছে। একদিকে দেশটি কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিষয়টিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও বিশ্লেষক মহলে এটি নিয়ে বড় ধরনের সতর্কতা ও উদ্বেগ দেখা গেছে।

মক্কা চুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক সতর্ক বার্তার আড়ালে ভারতীয় সামরিক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বেশ কিছু বড় ধরনের চিন্তা রেখাপাত করেছে। কূটনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে ভারত প্রকাশ্যে সঙ্ঘাতমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলেও, ভারতের নীতিনির্ধারকরা খুব ভালোভাবে অনুধাবন করছেন, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সীমানাজুড়ে তৈরি হওয়া এই নতুন ‘ত্রয়ী অক্ষশক্তি’ ভারতের ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা সমীকরণকে কিছুটা জটিল করে তুলেছে। ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার যে নীতি অনুসরণ করে আসছিল, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দুই প্রভাবশালী মুসলিম দেশের সাথে পাকিস্তানের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সে কৌশলে বড় ধাক্কা দিলো। চুক্তি অনুযায়ী, ‘এক দেশের ওপর আক্রমণ বাকিদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে’। ভারতের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয়, কারণ কাশ্মির বা সীমান্তে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কোনো সামরিক সঙ্ঘাত সৃষ্টি হলে এই ধারা কিভাবে ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ করা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের সাথে সৌদি আরবের কৌশলগত, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছিল। সৌদি আরব ভারতের একটি বড় অর্থনৈতিক সঙ্গী। কিন্তু রিয়াদ পাকিস্তানকে সাথে নিয়ে এ ধরনের সুসংহত প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করায় নয়াদিল্লির কৌশলবিদদের মধ্যে বেশ অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘ দিন ধরেই কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছে। তুর্কি ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হাতে পৌঁছানো এবং তিন দেশের যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা ভারতের সামরিক সুরক্ষার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন পাল্টা জোট গড়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদ্যমান ভারসাম্য বজায় রাখতে ইসরাইল ও ভারত কয়েকটি আরব রাষ্ট্রকে সাথে নিয়ে একটি পৃথক পাল্টা অক্ষশক্তি গঠন করলে তা হবে স্বাভাবিক ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

মক্কা চুক্তি মূলত তিনটি দেশকে নিজ নিজ ভূরাজনৈতিক শত্রুদের বিরুদ্ধে একটি শক্ত ‘প্রতিরোধমূলক দেয়াল’ তৈরির সুযোগ দিয়েছে। এটি বহিরাগত যেকোনো আক্রমণ ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত শক্তিশালী। মক্কা চুক্তি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক গ্যারান্টির দিন শেষ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আঞ্চলিক মিত্রদের প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ও শর্তহীন নিরাপত্তা দিতে অপারগ বা অনিচ্ছুক প্রমাণিত হওয়ায়, সৌদি আরবের মতো দেশগুলো পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে একটি পরিপূরক ও স্বাবলম্বী প্রতিরক্ষা বলয় গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি মার্কিন বিশ্বব্যবস্থার এক বিরাট কৌশলগত পিছু হটার শামিল।

লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews