গ্লোবাল এভিয়েশন বা বিমান বাজারে বোয়িং এবং এয়ারবাসের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চীনের তৈরি নতুন যাত্রীবাহী বিমান সি৯১৯ (C919) আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এভিয়েশন নিরাপত্তা সংস্থা (EASA)-র পাইলটদের দীর্ঘ কয়েক মাস ব্যাপী কঠোর পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে চীনের এই ন্যারোবডি জেটে বড় কোনো হার্ডওয়্যার বা কাঠামোগত ত্রুটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় পাইলটদের এই 'টেস্ট ড্রাইভ' অত্যন্ত কঠোর এবং সূক্ষ্ম ছিল। বিমানটির নিরাপত্তা এবং সহনশীলতা যাচাই করতে চালকরা সি৯১৯-কে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে (উড়োজাহাজটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা যাচাই করতে ইচ্ছাকৃত স্পিন ও স্টল করাসহ) পরিচালনা করেছেন। তবে এই ইন-ফ্লাইট পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার মানেই এই নয় যে এখনই বিমানটি চূড়ান্ত সার্টিফিকেট বা অনুমোদন পেয়ে যাচ্ছে। এটি চার ধাপের ইউরোপীয় অনুমোদন প্রক্রিয়ার তৃতীয় ধাপ মাত্র।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান 'কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন অব চায়না' (Comac) এই সি৯১৯ জেটটি তৈরি করেছে। মূলত মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের ৭৩৭ এবং ইউরোপের এয়ারবাস এ৩২০-এর বিকল্প হিসেবে বিশ্ববাজারে এই বিমানটিকে প্রতিষ্ঠা করতে চায় বেইজিং।
ইতোমধ্যেই চীনের অভ্যন্তরীণ রুটে গত তিন বছর ধরে সি৯১৯ নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন চীনা বিমান সংস্থাকে কোমাক ৩৭টি সি৯১৯ জেট সরবরাহ করেছে। তবে বিমানটিকে বিশ্ববাজারে বাণিজ্যিকভাবে প্রবেশ করাতে এবং আন্তর্জাতিক রুটে পরিচালনার জন্য পশ্চিমা নিয়ন্ত্রকদের, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই নিরাপত্তা অনুমোদন পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সাংহাইতে শুরু হওয়া ইউরোপীয় পাইলটদের এই সফল পরীক্ষা চীনের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।