বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জঙ্গিবাদের প্রচারণা ও জঙ্গিবাদ দমনের নাটকীয় ঘটনাগুলো মানুষের কাছে কখনো বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি। এগুলো ছিল মূলত সরকারের এক ঢিলে দুই পাখি মারার রাজনৈতিক অপকৌশল। প্রথমত: পশ্চিমাদের ইসলামোফোবিক এজেন্ডায় ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে জঙ্গিবাদের প্রচারণা ও নাটক সাজিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে একটি ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা, দ্বিতীয়ত জঙ্গি দমনের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার মধ্য দিয়ে ক্ষমতাকে নির্বিঘœ ও নিষ্কণ্টক রাখা। সে সময় প্রধান বিরোধীদল বিএনপিকে সরকারের জঙ্গি নাটকের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেখা গেছে। ২০২৩ সালের আগস্টে ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউটে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে দেখাতে সরকার জঙ্গি নাটক করছে। তিনি বলতে চেয়েছেন, সরকার জঙ্গি দমনের নামে নাটক সাজিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও ভারতকে বোঝাতে চেয়েছে যে, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি আছে, তাঁদের ছাড়া ইসলামি জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের পুরোটা সময়ই জঙ্গিবাদ নিয়ে এমন নাটক এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্টদের পরস্পর বিরোধী অবস্থানে দেখা গেছে। একদিকে সরকার জঙ্গি দমনের কৃতিত্ব জাহির করেছে অন্যদিকে জঙ্গিবাদের ঝুঁকির কথা বলে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে চাপের মুখে রাখার কৌশল কাজে লাগিয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতের হিন্দুত্ববাদী মিডিয়াগুলো বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের মিথ্যা প্রচারণায় মেতে থাকতে দেখা গেছে। এমনকি ড.মুহাম্মদ ইউনূসকেও জঙ্গি বলে অপবাদ দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতারা। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তা সত্বেও জঙ্গিবাদের কোনো ঘটনা দেখা যায়নি। কিন্তু বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের মাত্র দু’ মাসের মাথায় কেন নতুন করে জঙ্গী নিয়ে জিগির তোলা হচ্ছে সেটাই প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ নেই এ কথা বলা যাবে না, দেশে জঙ্গি রয়েছে। তাঁর এ ধরণের বক্তব্যের উৎস বা তথ্যসুত্র কি, তা আমাদের জানা নেই। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তরফ থেকে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গি বা উগ্রবাদী তৎপরতার কোনো হুমকি নেই। তবে পৃথিবীর সব দেশেই এক্সট্রিমিস্ট গ্রুপ ও ফান্ডামেন্টালিস্ট রাজনৈতিক দল থাকলেও বাংলাদেশে জঙ্গি শব্দের ব্যবহার করার মত পরিস্থিতি নেই। যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই দেশে জঙ্গিবাদের কোনো উপস্থিতি বা ঝুঁকি নেই বলে স্বীকার করছেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার পদে থাকা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তি কোনো বাস্তব তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই জঙ্গীবাদের হুমকির কথা বলায়, জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বাস্তবতায় বৈশ্বিক-আঞ্চলিক জটিল এক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এ সময়ে সরকার এবং বিরোধীদল ঐক্যবদ্ধভাবে সংকট মোকাবেলায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিরোধীদলের প্রস্তাবকে আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১০ সদস্যের একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এমতাবস্থায়, দেশে জঙ্গিবাদের হুমকির কথা বলে তথ্য উপদেষ্টা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? তিনি আসলে কিসের ভিত্তিতে, কার স্বার্থ হাসিল করতে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বন্ধাত্ব কেটে গিয়ে অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে, এমনটাই প্রত্যাশিত। এ সময়ে সরকারের তথ্য উপদেষ্টার মুখে নতুন করে জঙ্গি হুমকি ন্যারেটিভের ব্যবহার বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ভুল বার্তা দিতে পারে। এ ধরণের তথ্য পলাতক ফ্যাসিস্টের সহযোগিদের অপপ্রচারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে দেশে বাংলাভাইসহ জঙ্গিবাদী তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। সে সব তৎপরতার পেছনে কারা, কিভাবে কাজ করেছে, তা তথ্যাভিজ্ঞ মহলের অজানা নয়। ওই সময়ে জঙ্গি তৎপরতার পেছনে পশ্চিমা ও ভারতীয় হাত ছিল বলে অভিমত রয়েছে। আবারো তাদের খেলা শুরু হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়। এ সময়ে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের কথা প্রচার করলে পতিত ও পলাতক ফ্যাসিস্টের সহযোগীরা জোর গলায় বলতে পারবে, বিএনপি সরকারের আমলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। অতএব জঙ্গীবাদের ন্যারেটিভ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আরো সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। সংসদের অধিবেশন চলমান রয়েছে। যে কোনো বিষয় সংসদে আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু জঙ্গিবাদের মত নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে ভীতি সঞ্চারের কোনো সুযোগ নেই।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews