ভাষার মাসে বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ আয়োজনে কথা বলেছেন প্রকাশনা সংস্থা অন্বেষা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মো. শাহাদাত হোসেন। ভাষার ভবিষ্যতের বিষয়ে এই প্রকাশক বলেন, ভাষা টিকে থাকে তার প্রয়োগের ওপর। যেহেতু চর্যাপদের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকেই বহমান, তাই এ ভাষা টিকে থাকবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে কোন রূপে টিকে থাকবে তা সময়ের ওপরই নির্ভর করবে। ভাষার বিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, চর্যাপদ থেকেই ভাষার বিবর্তন শুরু। তবে ভাষার বিবর্তন সময়, কাল, স্থান ও পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পাঠকের আগ্রহও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনশীল মনে হয়। একসময় কবিতার প্রতি পাঠক সর্বোচ্চ আগ্রহ দেখাত। আবার বয়স ভেদেও আগ্রহের ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, তুলনামূলকভাবে যারা একটু বয়স্ক তাদের প্রবন্ধ, গবেষণা, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি। আবার যারা স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাদের থ্রিলার, উপন্যাস, ঐতিহাসিক উপন্যাস, বিজ্ঞান, ধর্মীয় ইতিহাস ও অনুবাদ সাহিত্যের প্রতি বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। তার মতে, বইপড়ুয়া পাঠকমহলে এখনো তরুণদের সংখ্যাই বেশি। মোবাইলের প্রতি যদিও তারুণ্যের অনেক বড় একটা অংশ ডুবে আছে, তার পরও যারা বই পড়ে বা সাহিত্যের প্রতি যাদের আগ্রহ আছে তাদের মধ্যে থ্রিলার, গোয়েন্দা, বিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি বেশি আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। ভাষার আন্তর্জাতিকীরণের বিষয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনিস্টিউটের মাধ্যমে ভাষা আন্তর্জাতিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে তা কার্যকরে কমতি রয়েছে। তাছাড়া আমাদের দেশে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন পরিপূর্ণভাবে করা যায়নি। আমরা যদি আমাদের দেশের জন্যই বাংলা ভাষাকে ব্যবহার করতে না পারি, তবে আন্তর্জাতিকভাবে এর সফলতা কীভাবে অর্জিত হবে?
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাহিত্যের যে ধারাটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে, সে ধারাটিই আমার কাছে মূলধারা। সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখতে হলে সাহিত্যচর্চা বাধ্যতামূলক। স্কুল-কলেজে বাংলা সাহিত্যের প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহী করে গড়ে তোলা যেতে পারে। তবে, সাহিত্যে নানা ধারা তৈরি হলেও সেখানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুদ্ধ বাংলার চর্চা রয়েছে। বাংলা ভাষাকে বিকৃত করার একটা প্রচলনও লক্ষণীয়। যতটা না সাহিত্যে তা প্রয়োগ হয় তার চেয়ে বেশি প্রয়োগ হয় নাটক বা সিনেমায়। ভাষার আঞ্চলিকতার প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে ভাষার বিকৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একুশের প্রকাশনার সংকট নিয়ে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, একুশের চেতনা নিয়ে কাজ করার জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। দীর্ঘ সময় নিয়ে গবেষণা ব্যয়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। শুধু ভাষার বিষয় নয়; আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, আমাদের সাংস্কৃতি নিয়েও যথেষ্ট গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে একুশের চেতনা নিয়ে কেউ কাজ করলে আমরা যথেষ্ট আগ্রহ নিয়েই বই প্রকাশ করব। এরই মধ্যে অন্বেষা প্রকাশন একাধিক গ্রন্থও প্রকাশ করেছে।