শুক্রবার (৮ মে) ২৫ বৈশাখ। বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তার স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
“শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক এ আয়োজন শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তবে এবার বসছে না ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন জানান, বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উদযাপনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে রবীন্দ্রসংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও মঞ্চনাটক।
জানা যায়, বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তার দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এ অঞ্চলে জমিদারি লাভ করেন। ১৮৯১ সালে পিতার নির্দেশে জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে কবিগুরু কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে আসেন এবং ১৯০১ সাল পর্যন্ত এখানে অবস্থান করেন।
পদ্মাপাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি এখানে বসেই রচনা করেন ‘সোনার তরী’, ‘চিত্রা’, ‘চৈতালী’সহ বহু বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। এখানেই রচিত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি শিলাইদহে বসেই রচনা করেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতসহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্যকর্ম।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সামনে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। দেয়াল ও গাছের গুঁড়িতে সাদা রঙ করা হয়েছে। কুঠিবাড়ির সামনের সড়কে চলছে আলপনা আঁকার কাজ। পুরো চত্বরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন রবীন্দ্রভক্তরা।
শিলাইদহ খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলেন, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর সাজসজ্জা দেখতে এসেছি। কুঠিবাড়িতে পা রাখলেই অন্যরকম অনুভূতি হয়। মনে হয় এখানকার আকাশ-বাতাসে এখনও রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইসরাইল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকাতেও কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। তবে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি দেখার অনেকদিনের ইচ্ছা ছিল। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এসে দেখছি উৎসবমুখর পরিবেশ। এখানকার সৌন্দর্য সত্যিই মন ভরিয়ে দেয়।
ফরিদপুর থেকে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী পলাশ মাহমুদ বলেন, কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্র সাহিত্যকর্মভিত্তিক থিয়েটার ও প্রদর্শনীর আয়োজন আরও বাড়ানো দরকার। তাহলে দর্শনার্থীরা দীর্ঘ সময় এখানে কাটাতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, কালবৈশাখী ঝড় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জন্মজয়ন্তী উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল