পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার আবারও পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের (এইচএসডি) দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ১৩.১৮ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৩.৮০ রুপি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১০.৭১ রুপি এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৩২৩.৩০ রুপি। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও গত মাসে চার মাসব্যাপী সংঘাতের অবসানে দুই দেশ একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় পৌঁছেছিল, তবুও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ফিরে এসেছে।

এর আগে উত্তেজনা কমে আসা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর গত এক মাসে পাকিস্তান সরকার ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৭৬ রুপি পর্যন্ত কমিয়েছিল। গত সপ্তাহেও পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১.৯৭ রুপি করে কমানো হয়েছিল। আর গত মাসে সবচেয়ে বড় মূল্যহ্রাসের সময় পেট্রোলের দাম ৭৪ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৬৭ রুপি কমানো হয়েছিল।

এদিকে শুক্রবার প্রকাশিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা-এর সর্বশেষ তেলবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কয়েক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আংশিক স্বাভাবিক হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন বেড়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না হওয়ায় উৎপাদন এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে উৎপাদন বাড়লেও বৈশ্বিক তেল উৎপাদন এখনো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দৈনিক প্রায় ৯৪ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে।

আইইএ জানায়, জুন মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে মাঝেমধ্যে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অঞ্চলটির উৎপাদন এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দৈনিক প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেল কম রয়েছে।

একই সময়ে ওপেক প্লাস জোটভুক্ত দেশগুলোর উৎপাদন জুনে দৈনিক প্রায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৩ কোটি ৮৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। এর মধ্যে সৌদি আরব একাই প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল এবং কুয়েত প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে।

অন্যদিকে ওপেক প্লাসের বাইরে থাকা দেশগুলোর উৎপাদনও দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৬ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত একাই প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদনের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews