নির্বাচন সুন্দরভাবে করার জন্য তিন মাস খুবই কম সময়। অবশ্যই নির্বাচন করব। আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার ইচ্ছা আছে। আবার উনাদের ইচ্ছা থাকতে পারে, উনারাও করতে পারেন। আবার নাও করতে পারেন -তামিম ইকবাল, বিসিবি সভাপতি
বিসিবি সভাপতি পদে তামিম ইকবাল ‘ইন’, আমিনুল ইসলাম বুলবুল আউট। দুজনই জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। দুজনের মধ্যে অদ্ভুত একটা মিল রয়েছে। বুলবুল ও তামিম বিসিবির সভাপতি হয়েছেন সরাসরি সরকারি সহায়তায়। অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদকে সরিয়ে বিসিবি সভাপতির পদে বসেছিলেন বুলবুল। এরপর বিতর্কিত নির্বাচনে সরকারের হস্তক্ষেপে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন। বুলবুলকে সরিয়ে তামিম সভাপতি হয়েছেন সরকারি সহযোগিতায়। বুলবুলের কমিটির বিপক্ষে তদন্ত করার পর প্রতিবেদন জমা দেয় পাঁচ সদস্যের কমিটি। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দুই দিনের মাথায় কমিটি ভেঙে তামিমকে প্রধান করে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটিতে তামিম ছাড়া রয়েছেন জাতীয় দলের আরেক সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ধারাভাষ্যকার আতহার আলি খান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরু, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী রাশনা ইমাম। ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি ও তানজিল চৌধুরী বিসিবির পরিচিত মুখ। এই ১১ জনের তামিম বাহিনীকে অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সন্তানদের উপস্থিতি থাকায় ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদে। তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সহসভাপতি রাজিব শুক্লা।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৬ অক্টোবর। সে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেও সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম। বর্তমান সরকারের সরাসরি সহায়তায় এবার দায়িত্ব নিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েই বোর্ডের হারানো ভাবমূর্তি উদ্ধারের কথা বলেন, ‘আমরা রেপুটেশন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।’ মঙ্গলবার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তামিম। অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করা। সে হিসেবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। যা ক্রিকেটার, ক্লাব, জেলা ও বিভাগীয় ক্রিকেট সংগঠকদের মূল চাওয়া। একটি সুস্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই তামিম বাহিনীর মূল চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে তামিমের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি করতে পারবে তো? অবশ্য বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর, ‘নির্বাচন সুন্দরভাবে করার জন্য তিন মাস খুবই কম সময়। অবশ্যই নির্বাচন করব। আপনি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার ইচ্ছা আছে। আবার উনাদের ইচ্ছা থাকতে পারে, উনারাও করতে পারেন। আবার নাও করতে পারেন। যখন একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হবে শুধু আমরা না, যারা যারা আগ্রহী আমি সবাইকে অনুরোধ করব সবাই যেন অংশগ্রহণ করেন।’
এত গেল নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ। আরও একটা বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে তামিমের। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন। অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আসিফ নজরুলের সরাসরি হস্তক্ষেপে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করে বাংলাদেশ। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার প্রতিবাদে টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করে বাংলাদেশ। বর্জনের কারণ হিসেবে ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, মিডিয়াকর্মী ও সমর্থকদের ভারতের মাটিতে নিরাপত্তাহীনতার কথা বলা হয়। যদিও স্বাগতিক ভারত ও আইসিসি চেষ্টা করেছে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপকে খেলাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবে বিসিবি কোনোভাবে রাজি হয়নি। এরপর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক শীতল। দুই বোর্ডের সম্পর্কোন্নয়নের জন্য বিসিবি অবশ্য একটি চিঠি পাঠায় বুলবুলের সময়। সে বিষয়ে কোনো উত্তর দেয়নি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। সেপ্টেম্বরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ খেলতে আসার কথা। সূচিও হয়েছে। দুই দেশের বর্তমান যে সম্পর্ক, এ অবস্থায় ভারতের আসা নিয়ে শঙ্কায় দুলছে বিসিবি। অ্যাডহক কমিটির প্রধানের এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেট লিগ। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ক্যাটাগরি-২’-এ ৭৬ ক্লাবের ৩২টি ভোট দেয়নি। শুধু তাই নয়, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডের তত্ত্বাবধানে কোনো প্রকার ক্রিকেট লিগে অংশগ্রহণ করা থেকেও বিরত থাকে ক্লাবগুলো। অধিকাংশ ক্লাবকে বাদ দিয়ে প্রথম ও তৃতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন করলেও প্রিমিয়ার ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন করতে পারেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ক্রিকেটাররা। তামিমের কমিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ ঘরোয়া ক্রিকেট মাঠে নামানো।
নির্বাচন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন ছাড়াও অ্যাডহক কমিটির সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয় তামিম বাহিনী এ চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামলান।