যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলবিরোধী যুদ্ধে ইরানকে সমর্থন করায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী। তেল নিয়ে বাংলাদেশের যে সমস্যা রয়েছে তা অচিরেই সমাধান হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধে ইরানের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এখন পর্যন্ত যুদ্ধে ইরানই জয়ী রয়েছে। এ জয় বিশ্বের সব মুসলমানের জয়, বাংলাদেশের জয়। চূড়ান্ত বিজয় আসলেও তা বাংলাদেশের বিজয় বলে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে প্রাচ্যের কবি ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী দার্শনিক আল্লামা ইকবালের ৮৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানি কালচারাল কাউন্সেলর এসব কথা বলেন।
‘সার্বভৌম উম্মাহ: আগ্রাসন মোকাবিলায় আল্লামা ইকবালের (রহ.) ঐক্যের দর্শন’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
সভায় বক্তৃতাকালে সৈয়দ রেজা মীর মোহাম্মদী আল্লামা ইকবালের চিন্তা দর্শন সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আজকের বিশ্ব পরিস্থিতির এ মুহূর্তে আল্লামা ইকবালকে নিয়ে এ ধরনের একটি আয়োজনকে আমি স্বাগত জানাই। আজকের সময়ে মুসলিম বিশ্বে যা কিছু ঘটছে আল্লামা ইকবাল ১০০ বছর আগে তা বলে গেছেন। তাই এ পরিস্থিতিতে আমরা অবশ্যই ইকবালের চিন্তা দর্শনের দিকে ফিরে যাব। আমরা নিজেদেরকে চিনবো। নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখব।
তিনি আরও বলেন, আল্লামা ইকবাল কবিতা ছাড়াও অনেক লেখা লিখেছেন; যাতে একটি বিষয় ফুটে উঠেছে, সেটা হলো ইসলামী পুনর্জাগরণ। তার চিন্তাদর্শন হলো মুসলমানরা এক উম্মত, একটি জাতি এবং যার চিন্তার উৎস হলো কুরআন। কুরআনে যেভাবে এসেছে মুসলমানরা এক জাতি, আল্লামা ইকবাল তার চিন্তাদর্শন ও লেখনীতে সেভাবেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আল্লামা ইকবাল তার কবিতাগুলোতে মুসলমানদেরকে মুসলমান হিসাবে পরিচিত করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সামনে মাথা নত করা যাবে না।
বাংলাদেশে আল্লামা ইকবাল চর্চা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইরানি কূটনীতিক বলেন, আল্লামা ইকবাল উর্দুবাসী হলেও ফার্সি ভাষাতে বেশি সাহিত্য রচনা করেছেন। মুসলিম বিশ্ব সম্পর্কে তার যে উচ্চ চিন্তা এ কারণে তিনি শুধু নির্দিষ্ট একটি ভূখণ্ডের মধ্যে আবদ্ধ নন। বরং তার সম্পর্ক হলো সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের মুক্তির সঙ্গে। তাই আমি আশা রাখি, আল্লামা ইকবালকে নিয়ে আরও বড় আয়োজন হবে।
আলোচনা সভার ধারণাপত্রে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন লিবারেল বিশ্ব ব্যবস্থার পতন ও চীনের নেতৃত্বাধীন নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উত্থানের সন্ধিক্ষণে আল্লামা ইকবালের দর্শনের আলোকে মুসলিম বিশ্বকে একটি সার্বভৌম পক্ষ হিসেবে উত্থানের উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাব করেন।
এতে তিনি সার্বভৌম উম্মাহ গঠনের জন্য সব মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে ‘মিলিটারি কনভারজেন্স’ (সামরিক ঐক্য) গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এর অংশ হিসেবে তিনি ন্যাটোর আদলে পাকিস্তান-ইরান-তুরস্ক-সৌদি আরব-বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ার নেতৃত্বে একটি মুসলিম প্রতিরক্ষা জোট গঠন করার রূপরেখা তুলে ধরেন।
খোমেনী ইহসান অর্থনৈতিক একত্রীকরণের লক্ষ্যে মুসলিম অর্থনৈতিক জোট, একক আন্তর্জাতিক মুদ্রা চালু, উম্মাহ ক্রিপ্টো কারেন্সি ও সমন্বিত জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান।
এছাড়াও মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে শিক্ষা-গবেষণা খাতে আন্তর্জাতিক মান অর্জনের প্রস্তাব তুলে ধরেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক।
নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমীর চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার খানের সভাপতিত্বে ও জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. বিলাল হোসাইন।