বেতাগী ((বরগুনা) প্রতিনিধি:
ভোটের মাঠে কথার লড়াই দিয়ে শুরু হয়েছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা দলের প্রার্থীরা পরস্পরকে ঘায়েল করতে, প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি তির ছোঁড়া বক্তব্যে তুলছেন অভিযোগ-পালটা অভিযোগ। তবে ধীরে ধীরে করা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এখন রূপ নিচ্ছে উস্কানিমূলক বক্তব্যে, যা পরিণত হয়েছে বিষোদগারে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বরগুনা-২ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের আয়োজিত বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া এলাকায় নির্বাচনি জনসভায় ‘বাঁশের লাঠি ও গাবের কচা’ নিয়ে দেশবাসীকে ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন বশির উদ্দিন জেহাদি নামের এক খেলাফত মজলিস নেতা। তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি।
জনসভার বক্তব্যে তিনি বলেন, সংগ্রামী দেশবাসী, আপনারা এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, প্রত্যেকটা সেন্টারে আপনারা এমনভাবে অবস্থান করবেন, ‘বাঁশের লাঠি আর গাবের কচা’ নিয়ে প্রত্যেকটা সেন্টারকে এমনভাবে পাহারা দেবেন, জাল ভোট হতে দেবেন না। প্রয়োজনে আপনার-আমার রক্তের বিনিময়ে হলেও সত্য ভোট দিব, সহিহ ভোট দিব, ইনশাআল্লাহ। ঠিক? না-কি বেঠিক?।
তিনি আরও বলেন, সংগ্রামী দেশবাসী, আপনারা এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করুন, জাল ভোট চলবে না। এমন একটি নির্বাচন হবে যা কখনো মানুষ তা চিন্তাও করে নাই, আর করবেও না। আপনারা নির্দ্বিধায় ভোট দিবেন, ইনশাআল্লাহ।
তবে এমন উগ্র বক্তব্যকে আচারণবিধি লঙ্ঘনসহ নির্বাচনি কার্যক্রমে সহিংসতার আগাম আভাস বয়ে আনার শঙ্কা বলছেন এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয় খেলাফত মজলিসের বেতাগী উপজেলা শাখার সভাপতি বশির উদ্দিন জেহাদি বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য যে নির্বাচনি আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন, তা আমি জানতাম না। একটা রঙ (ভুল) হয়েছে। আগামীতে আর এরকম হবে না। আমি মূলত বুঝাতে চেয়েছি, যাতে জাল ভোট কেউ দিতে না পারে, সন্ত্রাসী কার্যক্রম না করতে পারে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য বলছি।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক