ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্পেনের জয় উদযাপন করে সেজদা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবকের নাম আকবর হোসেন ওরফে জানি (২৩)। তিনি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের কণিকাড়া গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহনূর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) দিনগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে ফুটবল খেলা শেষ হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। ম্যাচে স্পেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আকবর হোসেন মাঠের একপাশে গিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে সেজদা দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গাংকুলহাটি স্কুল মাঠে একই গ্রামের আব্দুল বাতেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৭) এবং আব্দুল আওয়ালের ছেলে রিফাত (২৩) আকবরের ওপর চড়াও হন এবং তাকে বেদম মারধর করেন।
পরে আহত অবস্থায় আকবরকে উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আকবরের দাদি সেলিনা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই মা ছাড়া আকবরকে আমি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। ও শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, এটি গ্রামের সবাই জানে। শুধু আল্লাহর দরবারে একটি সেজদা দেওয়ার কারণে একটি ছেলেকে এভাবে মারধর করা হবে, তা আমি কোনোদিন কল্পনাও করিনি। আমি এ অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
আহত আকবরের চাচাতো ভাই ও সহপাঠী মো. ওবায়দুল্লাহ ওবা বলেন, আকবর যে একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ, তা পুরো গ্রামের সবার জানা। তার ওপর এমন অতর্কিত ও নির্মম হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, একজন অসহায় প্রতিবন্ধী যুবকের ওপর এমন হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসন যেন দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকবরের চিকিৎসা শেষে তারা এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরসহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ও রিফাতের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবীনগর থানার ওসি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।