প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিকে তলব করার ঘোষণা দিয়েছে ইরাক।
মঙ্গলবার রাতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। একইসাথে লক্ষ্যবস্তু হওয়া সাবেক আধাসামরিক গোষ্ঠীগুলোকে ‘প্রত্যুত্তর দেয়ার অধিকার’ দিয়েছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার জেরে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইরাকও জড়িয়ে পড়েছে। ভয়াবহ এই সংঘাত এখন গোটা অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
সাবেক আধাসামরিক জোট হাশেদ আল-শাবি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর অংশ। তবে এতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর ব্রিগেডও রয়েছে।
গোষ্ঠিটি দেশটির মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ওই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
ওই হামলায় একজন কমান্ডার ও ১৪ যোদ্ধা নিহত হন।
স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমার্গা বাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন।
অঞ্চলটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধ শুরুর পর কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এটিই ইরানের প্রথম প্রাণঘাতী হামলা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই মন্তব্য করেনি।
তবে মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইরাক জানায়, তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয় দেশের প্রতিনিধিকে তলব করবে ও হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র দেবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি, যাতে ইরাককে ‘সংঘাতের ক্ষেত্রের মধ্যে টেনে নেওয়া’ না হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক প্রক্সি সংঘর্ষের ময়দান। দু’দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে দেশটি চাপে রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক ও পুরো অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থে হামলার দায় স্বীকার করেছে। একইসাথে এ সব গোষ্ঠী ও রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাও চালানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, তাদের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হলে, সরকারি সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সাবেক আধাসামরিক সদস্যদের ড্রোন ও বিমান হামলার জবাব দেয়ার অধিকার দেয়া হয়েছে।
সূত্র : বাসস