স্পেন ও জিব্রালটারের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত তল্লাশি বুধবার থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন সীমান্ত পার হওয়া হাজারো শ্রমিকের জন্য সহজ যাতায়াতের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।
আইবেরীয় উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত স্বায়ত্তশাসিত ব্রিটিশ ভূখণ্ড জিব্রালটারের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। তবে সেখানে প্রতিদিন স্পেন থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ শ্রমিক সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করতে যান। তারা জিব্রালটারের মোট কর্মশক্তির প্রায় অর্ধেক।
ব্যস্ত সময়ে স্থল সীমান্তে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিচয়পত্রও পরীক্ষা করা হয়। বিশেষ করে জিব্রালটারের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ব্রিটেন ও স্পেনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে এ তল্লাশি আরো কঠোর হয়। স্পেন জিব্রালটারের ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পর ব্রাসেলস ও লন্ডনের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির আওতায় ১৫ জুলাই থেকে জিব্রালটার ও স্পেনের মধ্যকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়া হবে। চুক্তিটি মঙ্গলবার ব্রাসেলসে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর ফলে জিব্রালটার ইউরোপের পাসপোর্টবিহীন শেনজেন ভ্রমণ এলাকার নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
স্পেন, ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কয়েক বছর ধরে আলোচনার পর এ চুক্তি হচ্ছে।
তবে শেনজেন এলাকার বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের এখনো জিব্রালটারের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বুধবার সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে শ্রমিকরা স্পেন ও জিব্রালটারের মধ্যকার পুরোনো চেইন-লিংক বেড়া খুলে ফেলেছেন।
সানচেজ বলেছেন, নতুন এই ব্যবস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে থাকা ‘শেষ দেয়াল’ ভেঙে দেবে এবং যৌথ সমৃদ্ধির একটি অঞ্চল গড়ে তুলবে।
জিব্রালটার ফেডারেশন অব স্মল বিজনেসেসের প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেন, সীমান্ত পারাপারের ‘ঝামেলা’ অনেক সময়ই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। সীমান্তে চলাচল সহজ হলে স্পেনে বসবাসকারী কর্মীদের নিয়োগ ও ধরে রাখা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আরো সহজ হবে।
তিনি বলেন, ‘কর্মী ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বিষয় ছিল। সীমান্তে নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত হলে জীবন অনেক সহজ হবে।’
তিনি এ পদক্ষেপকে ‘খুবই, খুবই ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেন।
জিব্রালটারের মুখ্যমন্ত্রী ফ্যাবিয়ান পিকার্দো বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে সঙ্ঘাতের অতীত যুগের বাধাগুলো দূর হবে। একই সাথে আমাদের নিজেদের সামনের দরজার চাবি আমাদের হাতেই থাকবে।
প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতির জন্য লন্ডনের ওপর নির্ভরশীল জিব্রালটারের জনগণ গণভোটে বিপুলভাবে ব্রিটিশ ভূখণ্ড হিসেবেই থাকার পক্ষে ভোট দেয়ার পর ১৯৬৯ সালে স্পেনের স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো সীমান্ত বন্ধ করে দেন।
১৩ বছর ধরে চলা ওই সীমান্ত বন্ধ থাকায় স্পেন থেকে জিব্রালটারে শ্রমিকদের দৈনন্দিন যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বহু পরিবার।
সূত্র : বাসস