বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে মাইকেল জ্যাকসন নামটি এক অনিবার্য বিস্ময়! ২০০৯ সালে মৃত্যুর পরও যার জনপ্রিয়তা কমেনি একটুও, বরং সময়ের সঙ্গে বেড়েছে কৌতূহল, উন্মাদনা আর ভালোবাসা।
সেই কিংবদন্তীর জীবন নিয়ে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে ২৪ এপ্রিল, আর মুক্তির পরই যেন প্রমাণ করল-‘কিং অব পপ’ এখনও অপ্রতিরোধ্য!
অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত এই সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁরই ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। সঙ্গে রয়েছেন মাইলস টেলার, কোলম্যান ডোমিঙ্গো, ক্যাট গ্রাহামসহ আরও অনেকে।
সিনেমাটিতে তুলে ধরা হয়েছে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের শুরুর দিন থেকে শুরু করে একক শিল্পী হিসেবে বিশ্বজয়ের গল্প- যেখানে একজন প্রতিভাবান শিশুশিল্পী হয়ে ওঠেন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিনোদন তারকা।
মুক্তির আগেই টিজার ও ট্রেলার দিয়ে আলোচনার ঝড় তোলে সিনেমাটি। টিজার ২৪ ঘণ্টায় ১১৬ মিলিয়নের বেশি ভিউ পায়, আর ট্রেলারও ছাড়িয়ে যায় কয়েক মিলিয়ন ভিউ, যা মিউজিক্যাল বায়োপিকের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
তবে আসল ঝড় ওঠে মুক্তির পর। ওপেনিং উইকএন্ডেই বিশ্বজুড়ে ২১৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে ‘মাইকেল’। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭.২ মিলিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ১২১.৬ মিলিয়ন ডলার আয় করে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেট থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি খুব দ্রুতই লাভের মুখ দেখবে এবং সহজেই ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই সাফল্যের ফলে সিনেমাটি শুধু একটি বায়োপিক নয়, সম্ভাব্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতেও রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান লায়নসগেট ইতোমধ্যেই সিক্যুয়েলের ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ নির্বাহীরা বলছেন, মাইকেলের জীবনের আরও অনেক অধ্যায় এখনো পর্দায় দেখানো বাকি, যা নিয়ে তৈরি হতে পারে ‘মাইকেল পার্ট ২’!
এদিকে বক্স অফিসে তুমুল সাফল্য পেলেও, সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া কিন্তু মিশ্র! অনেকেই সিনেমাটিকে ‘অতিরিক্ত পরিচ্ছন্ন’ বায়োপিক বলে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো সিনেমায় তুলে না ধরার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে নির্মাতারা জানিয়েছেন, সিনেমাটি মূলত তার উত্থানপর্বেই সীমাবদ্ধ, নব্বইয়ের দশকের বিতর্কিত সময়কে এখানে দেখানো হয়নি।
সিনেমাটিতে তুলে ধরা হয়েছে সংগীতের বাইরেও মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প, যেভাবে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের তরুণ প্রতিভা থেকে তিনি হয়ে ওঠেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিনোদনশিল্পী। মঞ্চের বাইরের জীবন ও একক সংগীতজীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো দর্শক দেখবেন একেবারে কাছ থেকে, যেখানে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে এখানে। তাঁর বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডমিংগো। মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে নিয়া লংকে। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা। এ ছাড়া সংগীত জগতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও।
এই চরিত্রগুলোর মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ছোট বয়সে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে মাইকেলের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় তারকা। এই বায়োপিকে তুলে ধরা হয়ছে মাইকেল জ্যাকসনের অজানা অনেক গল্প।
সবকিছু ছাপিয়ে ‘মাইকেল’ দেখে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াই বলছে অন্য গল্প। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ভিড়, সামাজিক মাধ্যমে উচ্ছ্বাস- সব মিলিয়ে আবারও প্রমাণিত, মাইকেল জ্যাকসন শুধুই একজন শিল্পী নন, তিনি এক অনুভূতির নাম।
বাংলাদেশেও সিনেমাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। স্টার সিনেপ্লেক্স আন্তর্জাতিক মুক্তির দিনেই (২৪ এপ্রিল) সিনেমাটি মুক্তি দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে ‘মাইকেল’ নিয়ে। শুধু তাই নয়, অগ্রিম টিকিট কেটে সিনেমাটি দেখছেন দর্শক। স্ল্যাশফিল্ম