টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচের বিদায়ের পর মাঝমাঠে একজন ডিপ-লাইং প্লেমেকারের অভাব ভোগাচ্ছে রিয়ালকে; রদ্রির বিকল্প হিসেবে আলোচনায় আর্সেনালের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রিকে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ার পর আর্সেনালের স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মার্টিন জুবিমেন্দির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল ২৭ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারকে ছাড়তে আগ্রহী নয়।
চলতি গ্রীষ্মে এখন পর্যন্ত মূল দলের জন্য ছয়জন খেলোয়াড়কে দলে নিয়েছে রিয়াল। তারপরও মাঝমাঠের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধান করতে পারেনি স্প্যানিশ জায়ান্টরা।টনি ক্রুস ও লুকা মদরিচের বিদায়ের পর থেকেই মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম একজন ডিপ-লাইং প্লেমেকারের অভাব অনুভব করছে রিয়াল। তাই এবারের দলবদলে এই পজিশনের একজন খেলোয়াড়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
রেকর্ড ১৪০ মিলিয়ন ইউরোয় ইয়ান দিয়োমান্দেকে দলে নেওয়ার পর রিয়ালের নজর ছিল ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রির দিকে। বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই মিডফিল্ডারকে পেতে আগ্রহী ছিল তারা।তবে ৩০ বছর বয়সী রদ্রি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করায় সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা খেয়েছে রিয়াল। এরপর এমন খবরও এসেছে, রদ্রিকে না পেলে বিকল্প কোনো মিডফিল্ডারের জন্য হয়তো আর মাঠে নামবে না হোসে মরিনিওর দল।
মরিনিও প্রাক-মৌসুমে ছোট স্কোয়াড নিয়ে কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। ফলে ১ সেপ্টেম্বর দলবদলের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে নতুন খেলোয়াড় কেনার চেয়ে কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়ার দিকেই রিয়ালের মনোযোগ বেশি থাকতে পারে।
এর মধ্যেই ফুটবল লন্ডনের দাবি, জুবিমেন্দির প্রতি রিয়ালের আগ্রহ এখনো রয়েছে। গত মৌসুমে আর্সেনালের হয়ে ২০২৫-২৬ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলেরও সদস্য ছিলেন এই মিডফিল্ডার।আর্সেনাল অবশ্য জুবিমেন্দিকে বিক্রি করতে চায় না। তবে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে ব্রুনো গিমারায়েসকে দলে নেওয়ার পর বড় অঙ্কের প্রস্তাব এলে ইংলিশ ক্লাবটির অবস্থান বদলাতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোও জুবিমেন্দির রিয়ালে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তাদের মতে, চুক্তিটি ‘কঠিন, তবে অসম্ভব নয়।’জুবিমেন্দি রিয়ালের নজরে অবশ্য নতুন নন। গত বছর রিয়াল সোসিয়েদাদে থাকার সময়ও তাঁকে চেয়েছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। তবে রিয়াল আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনোর আগেই আর্সেনালে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
এবার জুবিমেন্দি দলবদলের জন্য উন্মুক্ত হলে রিয়ালের পাশাপাশি জাবি আলোনসোর চেলসিও তাঁকে পেতে আগ্রহ দেখাতে পারে। তাঁকে ছাড়তে আর্সেনালকে রাজি করাতে অন্তত ৯০ মিলিয়ন ইউরো খরচ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এএসের দাবি কিছুটা ভিন্ন। তাদের মতে, জুবিমেন্দির জন্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেয়নি রিয়াল। বরং ক্রিস্টাল প্যালেসের অ্যাডাম ওয়ার্টন, এজেডের কিস স্মিট, লিলের আইয়ুব বুয়াদ্দি এবং স্টুটগার্টের ২১ বছর বয়সী চেমা আন্দ্রেসকে পর্যবেক্ষণ করছে তারা।
জুবিমেন্দিকে শেষ পর্যন্ত রিয়াল কিনবে কি না, তা অনিশ্চিত। তবে তাঁর খেলার ধরন রিয়ালের বর্তমান চাহিদার সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তিনি।স্পেন জাতীয় দলে রদ্রির অনুপস্থিতিতে একাধিকবার এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন জুবিমেন্দি। বিশেষ করে ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিরতির পর বদলি হিসেবে নেমে স্পেনের ২-১ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
শারীরিক শক্তিতে রদ্রির পর্যায়ে না হলেও কৌশলগত বোধ ও খেলা পড়ার দক্ষতা জুবিমেন্দির অন্যতম শক্তি। গত প্রিমিয়ার লিগ মৌসুমে মিডফিল্ডারদের মধ্যে ট্যাকলে ১৪তম এবং ইন্টারসেপশন ও সফল শর্ট পাসে সপ্তম স্থানে ছিলেন তিনি।বর্তমানে মরিনিওর পছন্দের ৪-২-৩-১ ফরমেশনের দুই মিডফিল্ড পজিশনের জন্য রিয়ালের হাতে রয়েছেন অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি, ফেদেরিকো ভালভার্দে, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, আরদা গুলের, থিয়াগো পিতার্চ ও নতুন যোগ দেওয়া বের্নার্দো সিলভা।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন কাউকে না কিনলে রদ্রির ভূমিকায় সিলভাকে ব্যবহার করতে পারে রিয়াল। তবে আক্রমণাত্মক ভূমিকায় ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কাটানো ৩২ বছর বয়সী সিলভার চেয়ে রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে জুবিমেন্দির খেলার ধরন এই দায়িত্বের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।