অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে নামার আগে বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিরুদ্ধে ¯্রফে ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সেই প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে লেট-মিডল অর্ডারের ভরসা লিটন দাসের ফিট হয়ে ওঠাটা ছিল সবচেয়ে জরুরি। ডারউইন টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং কোচ আশিকুর রহমান শেষ পর্যন্ত সেই স্বস্তির খবরই দিলেন।
অগামীকাল থেকে ডারউইনে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। ‘ম্যাচ ডে মাইনাস টু’-এর অনুশীলন সেশন ছিল সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এদিন চোট কাটিয়ে ফেরা লিটনের অবস্থার দিকে বাড়তি কৌতূহল ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। তার অবস্থা বুঝেই দলের কৌশল ও একাদশ নির্ধারণের ব্যাপার ছিলো। বাংলাদেশের এই কিপার-ব্যাটার স্কিল অনুশীলনে ব্যাটিং পর্ব আগেই শুরু করেছিলেন। কিপিং ড্রিলের সেশনও করেছেন। তবে পুরো তীব্রতা নিয়ে ম্যাচের দুদিন আগে অনুশীলনের পর কিপিং নিয়ে যেটুকু সংশয় ছিল, তাও দূর হয়ে গেছে। ক্যাচিং ড্রিলের সময় কিপিং গ্লাভস হাতে পুরোপুরি সাবলীল ছিলেন তিনি, তার মুভমেন্টেও কোনো সমস্যা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে গণমাধ্যমকে আশিক বলেন, ‘সিøপ ক্যাচ ড্রিলের সময় আপনারা লিটনকে উইকেটকিপিং করতে দেখেছেন এবং তার মুভমেন্ট খুবই ভালো। আলহামদুলিল্লাহ।’
গত ১৪ জুন ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে পেশির চোটে পড়েন লিটন। চোট ব্যবস্থাপনায় কিছু বিভ্রান্তির কারণে অনুমিত সময়ের বেশ পরে মাঠে ফেরা হচ্ছে তার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর জিম্বাবুয়ে সফরে কোনো সংস্করণেই খেলা হয়নি তার। শুরুতে ডারউইন টেস্টের স্কোয়াডেও ছিলেন না তিনি। তবে ফিটনেসের নাটকীয় উন্নতিতে টেস্ট দলে ফেরেন বাংলাদেশ দলের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার। এবার মূল মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার অপেক্ষায় তিনি।
বাংলাদেশ যেখানে একজন ‘বাড়তি’ ব্যাটসম্যান প্রাপ্তির আনন্দে আটখান সেখানে অস্ট্রেলিয়ার ভেন্যু রাঙাচ্ছে চোখ। বাকি দুই সংস্করণের চেয়ে টেস্টে উইকেট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বেশি। পাঁচ দিনের খেলায় উইকেট কেমন আচরণ করবে, তার ওপর অনেকখানি নির্ভর করবে ম্যাচের ফল। তা মাথায় রেখেই দলগুলোকে পরিকল্পনা সাজাতে হয়। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ প্রথম টেস্টের আগেও আলোচনায় আছে ডারউইনের উইকেট। মারারা স্টেডিয়াম নামের এই মাঠে এখন পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচই হয়েছে মাত্র দুটি। ২০০৩ সালে যার সর্বশেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশই। প্রায় ২৩ বছর বিরতি দিয়ে যখন আবার এখানে টেস্ট হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন আসে, কেমন হবে উইকেট? উত্তরে গতকাল ডারউিনে সংবাদ সম্মেলনে মারারা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ বলেছেন, ‘এমন একটা মানসম্মত পিচ হবে, যেখানে রান উঠবে, বোলাররাও চেষ্টা করলেও কিছু সহায়তা পাবে। এই মুহূর্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার মতো কোনো অবস্থায় আমরা নেই, তাই আমরা এমন একটা ভারসাম্যপূর্ণ পিচ হবে, যা সত্যিই খেলার জন্য উপযোগী হয়।’
জ্যাক পাভলিচ জানিয়েছেন, চতুর্থ-পঞ্চম দিনে উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। তবে তাঁদের চেষ্টা ছিল ধারাবাহিকতা থাকবে এমন উইকেট তৈরির। অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে পেসাররা ভালো সাহায্য পান- এমন ভাবা হয়। এটাও কি প্রথাগত অস্ট্রেলিয়ান উইকেটই হবে? উত্তরে জ্যাক পাভলিচ বলেন, ‘দেশের সব জায়গার পিচই কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির, তাই ঠিক আদর্শ অস্ট্রেলিয়ান পিচ কাকে বলে, তা বলা কঠিন। সত্যি বলতে, আমি নিজেও ঠিক জানি না।’ তবে তিনি তার আশাটা জানিয়ে রেখেছেন, ‘আমি আশাবাদী যে একটি মানসম্মত ভালো ব্যাটিং উইকেট পাওয়া যাবে, যেখান থেকে বোলাররাও পরিশ্রম করে কিছু সুবিধা আদায় করে নিতে পারবে। জানি কথাটা গতানুগতিক শোনাচ্ছে, তবু।’
মারারা স্টেডিয়ামের আগের দুই টেস্টেই শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের জয়টা তো ছিল ইনিংস ব্যবধানেই। সর্বশেষ অ্যাশেজে পার্থ ও মেলবোর্ন টেস্ট শেষ হয়ে গিয়েছিল দুই দিনেই। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে তেমন কিছু হবে না বলেই আশা কিউরেটরের, ‘আমরা কখনোই দুই দিনে টেস্ট শেষ হোক, তা চাইব না। তবে সত্যি বলতে, এটি আমাদের হাতেও নেই। আমরা শুধু উইকেট প্রস্তুত করি, আর বাকি কাজটা খেলোয়াড়দের।’