ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তি ছিল না, তবে অগ্রগতি হয়েছিল এবং এটিই যে ইরানিদের শেষ প্রস্তাব ছিল, তা-ও নয়। যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদল আশা করেছিল, জেনেভায় হওয়া অগ্রগতির ভিত্তিতে আলোচনার পরবর্তী ধাপ এগিয়ে যাবে।
পরবর্তী ধাপের সেই আলোচনা ২ মার্চ ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা আর হয়নি। কারণ, এর দুই দিন আগেই ইরানে সর্বাত্মক আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
জেনেভায় সেই আলোচনা এবং চলতি মাসের শুরুর দিকে ওই শহরেই অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠকগুলোয় পাওয়েলের উপস্থিতি যুক্তরাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করতে সাহায্য করে। মূলত এ কারণেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় সমর্থন দিতে অনীহা জানিয়েছিল যুক্তরাজ্য সরকার। আর এই অনীহার ফলে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নজিরবিহীন টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে।
ইউরোপে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আসন্ন কোনো হুমকি কিংবা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের কোনো অকাট্য প্রমাণ পায়নি যুক্তরাজ্য। এই প্রথম এটি স্পষ্ট হলো, ওই আলোচনায় যুক্তরাজ্য অত্যন্ত নিবিড়ভাবে জড়িত ছিল। ফলে কূটনৈতিক পথ সত্যিই রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল কি না এবং যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা প্রয়োজনীয় ছিল কি না, তা যাচাই করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ যুক্তরাজ্যের কাছে ছিল।
যুক্তরাজ্য এই হামলাকে বেআইনি ও অকালপক্ব হিসেবে গণ্য করেছে। কারণ, পাওয়েল বিশ্বাস করতেন, ইরান কীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করতে পারে—সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার একটি সমঝোতামূলক সমাধানের পথ তখনো খোলা ছিল।