আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। এর মাধ্যমে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মত শেষ ষোল থেকে বিদায় ঘটলো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। 

নরওয়ের গোলরক্ষক ওরলান নাইল্যান্ড প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি রুখে দেন। আর এতেই ব্রাজিলের ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। এছাড়াও ম্যাচে বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে ওরলান নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন। 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষের ১১ মিনিটে হালান্ডের দুই গোলে ব্রাজিলের পরাজয় নিশ্চিত হয়। স্টপেজ টাইমে ব্রাজিলের দ্বিতীয় স্পট কিক থেকে নেইমার এক গোল পরিশোধ করেন। 

দুই গোল করে হালান্ড লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সাথে এবারের আসরে ৭ গোলের কৃতিত্ব অর্জন করলেন। 

২৪ বছরের বিশ্বকাপ শিরোপা খরা কাটানোর লক্ষ্যে অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে নিয়োগ দিয়েছিল ব্রাজিল। এনিয়ে টানা ছয় বিশ্বকাপে ইউরোপীয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নক আউট পর্বে হেরে বিদায় নিতে হলো সেলেসাওদের। 

৩৬ বছর আগে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল ব্রাজিল। ঐ আসরে চির প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে শেষ ষোলর লড়াইয়ে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। 

আগের রাউন্ডে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির স্টপেজ টাইমের গোলে জাপানকে পরাজিত করেছিল আনচেলত্তির শিষ্যরা। ব্রাজিলিয়ান লাইন-আপে ইনজুরি আক্রান্ত লুকাস পাকেতার স্থানে আর্সেনালের এই উইঙ্গার মূল দলে খেলেছেন। অন্যদিকে উরুর ইনজুরির কারণে দুই ম্যাচে অনুপস্থিত বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ডিফেন্ডার জুলিয়ান রায়ানসন দলে ফেরায় আত্মবিশ্বাসী ছিল নরওয়ে। 

ম্যাচ শুরু ৩ মিনিটের মধ্যে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু প্যাট্রিক বার্গের গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। বক্সের ভিতর ম্যাথিয়াস কুনহাকে ফাউলের অপরাধে ক্রিস্টোফার আয়ারের বিপক্ষে পেনাল্টি আদায় করে নেয় ব্রাজিল। ১৪ মিনিটে স্পট কিক থেকে গুইমারেস ব্রাজিলকে এগিয়ে দিতে ব্যর্থ হন। কিছুক্ষণ পর মার্টিনেলির লো ড্রাইভ থেকে গুইমারেস আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন। 

ভিনিসিয়াস জুনিয়রও নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করতে পারেননি। বিরতির আগে হালান্ড তেমন একটা অবদান না রাখতে পারলেও তার প্রভাব দলে ছিল অপরিসীম। যা তিনি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগে তিনি গ্যাব্রিয়েল মাগালহেস ও মারকুইনহোসকে ব্যস্ত রেখেছিলেন। ওডেগার্ডের একটি শট কোনমতে রক্ষা করেন এ্যালিসন বেকার।  

বিরতির পর নরওয়েজিয়ান কোচ স্টেল সোলবাকেন এন্টোনিও নুসা ও আলেক্সান্দার সোরলোথের স্থানে মাঠে নামান ওসকার বব ও আন্দ্রেস শিলডেরাপকে। আনচেলত্তিও এনড্রিককে মাঠে নামানোর সাথে সাথে ম্যাচের চিত্র প্রায় পাল্টে গিয়েছিল। ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত পাস থেকে নাইল্যান্ডকে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি এনড্রিক। রায়ানের জোড়ালো একটি শট রুখে দেন নাইল্যান্ড। এরপর গুইমারায়েসকে হতাশ করেন নরওয়েজিয়ান এই গোলরক্ষক। 

৬৭ মিনিটে মাঠে নামেন নেইমার। ৭৯ মিনিটে হালান্ডের হেডে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ৯০ মিনিটে জোড়ালো শটে এ্যালিসনকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান হালান্ড। স্টপেজ টাইমে ক্যাসেমিরোর আদায় করা পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল শোধ করলেও তা কার্যত কোন কাজে আসেনি।

এএইচ




Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews