যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা সফল করতে হলে ইরানের নিজ মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে অবশ্যই স্বীকৃতি দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার তেহরানে এক নীতি নির্ধারণী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কখনোই ‘জিরো এনরিচমেন্ট’ বা সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করার শর্ত মেনে নেবে না। তবে আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জনের জন্য ইরান এমন কোনো ব্যবস্থায় সম্মত হতে পারে যা প্রমাণ করবে তাদের এই কর্মসূচি কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন গত শুক্রবার ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দীর্ঘ বিরতির পর শুরু হওয়া এই সংলাপকে ইরান একটি ‘ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে।
সম্মেলনে আরাগচি বলেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর আমাদের জোর দেওয়ার বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রশ্ন। অন্য কোনো দেশ ইরানি জাতিকে বলে দিতে পারে না যে তারা কী করবে বা কী করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ইরান কেবল পারমাণবিক বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নীতি নিয়ে আলোচনার যে দাবি জানানো হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি। তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বাজার খোলার শুরুতেই তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক আলোচনাকে উভয় দেশই ‘ইতিবাচক’ বলে অভিহিত করেছে। এই কূটনৈতিক অগ্রগতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় কোনো যুদ্ধের আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাজারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৮৯ সেন্ট বা ১.৩১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৬৭.১৬ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১.২৪ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৬২.৭৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ওমান ও ইরানের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই অঞ্চলে সামান্য উত্তজনাও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম তেলের বাজারে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেল। সূত্র : রয়টার্স।