নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ফতুল্লা সংবাদদাতা

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার টেন্ডার (দরপত্র) জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন এনসিপির জেলা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গঙ্গানগর এলকার তৌহিদ, বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর, মধ্যনগর এলাকার জামায়াত কর্মী সাইফুল ও মোখলেসসহ আরো দু’জন। ঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও পরে তা রাজনৈতিক রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বক্তাবলী খেয়াঘাটের ইজারার দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। ইজারা পেতে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর অনুসারী এবং বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

দুপুর ১টার দিকে জামায়াত ও এনসিপি কর্মীরা দরপত্র জমা দিতে গেলে বিএনপি কর্মীদের বাধার মুখে পড়েন তারা। এ সময় এনসিপি নেতা তাওহিদ ও বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর প্রতিবাদ করলে বিএনপির বক্তাবলী ইউনিয়ন সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। মারধরের শিকার হয়ে জামায়াত অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

দুপুর আড়াইটার দিকে এনসিপি কর্মীরা আবারো উপজেলায় জড়ো হলে দু’পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় এনসিপি কর্মীদের পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি ও যুবদল কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হামলার শিকার এনসিপি নেতা তাওহীদ বলেন, ‘সকাল থেকেই বিএনপির লোকজন আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছিল না। প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে ও জামায়াতের আমিরকে মারধর করে। পরে আমাদের কর্মীরা খবর পেয়ে সেখানে এলে আবারো তারা উস্কানি দিয়ে মারামারি শুরু করে।’

বক্তাবলী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু বকর নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রধানের নেতৃত্বে ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম, ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি আবুল খায়ের, ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল প্রধানের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। বাধার কারণে জামায়াত অনুসারীরা দরপত্র জমা দিতে পারেনি। হামলায় জামায়াত কর্মী সাইফুল ও মোখলেস আহত হয়।’

ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আমরা সমঝোতার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে ব্যবসা করার কথা বলেছিলাম; কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা মিলেমিশে সমাধান করা যেত।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দুপুরে দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল। তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং সুষ্ঠুভাবেই দরপত্র নেয়া হয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews