ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে লড়বে শিরোপার জন্য। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি উঠবে রাউন্ড অব ৩২ এ, সঙ্গে যোগ দেবে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান পাওয়া দল।

ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এই চার পরাশক্তিকে আলাদা ব্র্যাকেটে রাখা হয়েছে। ফলে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হবে না।

দলগুলোর সামগ্রিক শক্তি বিবেচনায় গ্রুপগুলোকে কঠিন থেকে সহজ ক্রমে সাজিয়ে সম্ভাব্য ফেভারিটদের বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো

গ্রুপ ‘I’ (আই): ফ্রান্স, সেনেগাল, ইরাক, নরওয়ে

এবারের বিশ্বকাপের 'গ্রুপ অব ডেথ' বা মৃত্যুর কূপ বলা যায় গ্রুপ আই-কে। অংশগ্রহণকারী দলগুলোর গড় ফিফা র‍্যাংকিং এখানে সবচেয়ে বেশি।

  • ফ্রান্স: শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার এবং টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে খেলার লক্ষ্য তাদের।

  • সেনেগাল: আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী ও সমীহ জাগানিয়া দল।

  • নরওয়ে: আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে যেকোনো দলের জন্য বড় ভয়ের কারণ (ডার্ক হর্স)।

  • ইরাক: দীর্ঘ বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়ে আসা এই দলটিকেও সহজে হেলাফেলা করা যাবে না।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: ফ্রান্স এবং সেনেগাল।

গ্রুপ ‘F’ (এফ): নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন, তিউনিসিয়া

  • নেদারল্যান্ডস: র‍্যাংকিংয়ের ৭ম স্থানে থাকা ডাচরাই এই গ্রুপের প্রধান শক্তি।

  • জাপান: সবার আগে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা এশিয়ান জায়ান্টরা সম্প্রতি ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের জাত চিনিয়েছে।

  • সুইডেন: আলেকজান্ডার ইসাক এবং ভিক্টর গিওকেরেসের মতো বিধ্বংসী আক্রমণভাগ রয়েছে তাদের।

  • তিউনিসিয়া: বাছাইপর্বে একটি গোলও না হজম করা এই আফ্রিকান দলটি এবারই প্রথম নকআউটে যেতে মরিয়া।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: নেদারল্যান্ডস এবং জাপান।

গ্রুপ ‘L’ (এল): ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা

  • ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া: গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল ও সেমিফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া এবারও লম্বা রেসের ঘোড়া। উদ্বোধনী ম্যাচেই তারা মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের, যেখানে থমাস টুখেলের অধীনে থ্রি-লায়ন্সরা প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের স্বাদ নেবে।

  • ঘানা ও পানামা: কার্লোস কুইরোজের অভিজ্ঞ নির্দেশনায় ঘানা গ্রুপ পর্ব পার হতে চাইবে, আর পানামা এসেছে সেন্ট্রাল আমেরিকার সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংধারী দল হিসেবে। ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া ফেভারিট হলেও কাজটা মোটেও সহজ হবে না।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া।

গ্রুপ ‘C’ (সি): ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০-এর দুটি দল থাকায় এই গ্রুপে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

  • ব্রাজিল: কার্লো আনচেলত্তির দল হয়তো আগের মতো অপ্রতিরোধ্য ফর্মে নেই, তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে তারাই সবচেয়ে এগিয়ে।

  • মরক্কো: আফ্রিকান কাপ অব নেশনস চ্যাম্পিয়ন মরক্কো ২০২২ সালের সেই রূপকথার পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চাইবে এবং তারাই ব্রাজিলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

  • স্কটল্যান্ড ও হাইতি: মূলত তৃতীয় স্থানের জন্য লড়বে, তবে বড় দলগুলোকে চমকে দেওয়ার ক্ষমতা তাদের আছে।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: ব্রাজিল এবং মরক্কো।

গ্রুপ ‘K’ (কে): পর্তুগাল, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (DR Congo), উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া

  • পর্তুগাল ও কলম্বিয়া: কাগজে-কলমে এই দুই দলই মূল ফেভারিট। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালিস্ট কলম্বিয়া এবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাবে।

  • উজবেকিস্তান ও কঙ্গো: ম্যানচেস্টার সিটির আবদুকোদির খুসানভের মতো তারকা সমৃদ্ধ এবং ফাবিও কানাভারোর কোচিংয়ে থাকা নবাগত উজবেকিস্তান কিংবা প্লে-অফ জিতে আসা কঙ্গোকে খাটো করে দেখার উপায় নেই।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: পর্তুগাল এবং কলম্বিয়া।

গ্রুপ ‘H’ (এইচ): স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে

  • স্পেন: ইউরো ২০২৪ জয়ের পর স্প্যানিশ 'লা রোহা'রা এবার ট্রফি জয়ের অন্যতম হট ফেভারিট।

  • উরুগুয়ে: মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ের সাথে স্পেনের ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হতে যাচ্ছে।

  • সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে: কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরব এবার কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে তৃতীয় স্থানের জন্য লড়াই করবে।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: স্পেন এবং উরুগুয়ে।

গ্রুপ ‘E’ (ই): জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর

গড় র‍্যাংকিং তলানির দিকে হলেও এই গ্রুপটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ও কঠিন।

  • জার্মানি: টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটে যেতে মরিয়া সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

  • ইকুয়েডর: চেলসির মোইসেস কাইসেডোর ইকুয়েডর লাতিন আমেরিকার বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হয়ে মূল পর্বে এসেছে।

  • আইভরি কোস্ট: আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা প্রস্তুতি ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। অন্যদিকে নবাগত কুরাসাও এখনও সবার অচেনা।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: জার্মানি এবং ইকুয়েডর।

গ্রুপ ‘J’ (জে): আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

  • আর্জেন্টিনা: বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা তুলনামূলক সহজ গ্রুপ পেয়েছে এবং লিওনেল মেসির দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া: র‍্যাংকিংয়ের বিচারে এই দুই দলের ম্যাচটিই গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান নির্ধারণ করবে।

  • জর্ডান: ২০২৩ এশিয়ান কাপের রানার্স-আপ জর্ডান এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে। বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষের মাঠে অপরাজিত থেকে ৩২ গোল করা এই দলটি কাউকেই ছেড়ে কথা বলবে না।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: আর্জেন্টিনা এবং অস্ট্রিয়া।

গ্রুপ ‘A’ (এ): মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র

গড় র‍্যাংকিং ৩৫ হওয়ায় এটিকে সহজ গ্রুপগুলোর একটি বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • মেক্সিকো: সহ-আয়োজক হিসেবে ঘরের মাঠের চেনা দর্শকদের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে শীর্ষ দুইয়ে থাকতে চাইবে তারা।

  • দক্ষিণ কোরিয়া: এশিয়ান বাছাইপর্বে অপরাজিত থাকা একমাত্র দল। ৭৪ বছর বয়সী মিরোস্লাভ কৌবেকের চেক প্রজাতন্ত্রের সাথে তাদের লড়াই হবে দ্বিতীয় স্থানের জন্য।

  • দক্ষিণ আফ্রিকা: আগে কখনো নকআউটে না পৌঁছালেও এবার সেরা তৃতীয় দল হিসেবে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: মেক্সিকো এবং দক্ষিণ কোরিয়া।

গ্রুপ ‘G’ (জি): বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

বেলজিয়ামের ‘সোনালী প্রজন্ম’ অতীত হলেও রুডি গার্সিয়ার দলের জন্য এটি বেশ সহজ এক গ্রুপ।

  • মিশর: মোহাম্মদ সালাহর মিশর বিশ্বকাপে কখনো ম্যাচ না জিতলেও ইরান ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী থাকবে।

  • ইরান ও নিউজিল্যান্ড: চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে ইরানের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রভাব মাঠে পড়তে পারে। আর টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন র‍্যাংকিংধারী দল নিউজিল্যান্ডের জন্য এই গ্রুপ পার হওয়া এক পাহাড়সম পর্বত ডিঙানোর মতো।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: বেলজিয়াম এবং মিশর।

গ্রুপ ‘D’ (ডি): যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া

সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই গ্রুপটি বেশ সুবিধাজনক।

  • যুক্তরাষ্ট্র: র‍্যাংকিংয়ের ১৬ নম্বরে থাকা দলটিকে নকআউটে নিয়ে যাওয়ার মূল ভরসা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক এবং নতুন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো।

  • তুরস্ক, প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া: কোনো অতিমানবীয় সুপারস্টার না থাকলেও গ্রুপটি ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্লে-অফ পেরিয়ে আসা তুরস্কের শীর্ষ দুইয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি হলেও প্যারাগুয়ে বা অস্ট্রেলিয়াও অঘটন ঘটাতে পারে।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্ক।

গ্রুপ ‘B’ (বি): কানাডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কাতার, সুইজারল্যান্ড

গড় ফিফা র‍্যাংকিং ৪২ নিয়ে এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল গ্রুপ হলেও লড়াই হবে সমানে সমানে।

  • সুইজারল্যান্ড: বড় টুর্নামেন্টের নকআউটে খেলার দারুণ অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য রয়েছে এই সর্বোচ্চ র‍্যাংকিংধারী দলটির।

  • কানাডা: বিশ্বকাপে তাদের অতীত রেকর্ড ভালো না হলেও জেসি মার্শের অধীনে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছে সহ-আয়োজকরা।

  • বসনিয়া ও কাতার: প্লে-অফে ইতালিকে বিদায় করা বসনিয়া সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের দিকে চোখ রাখছে, আর ২০২৩ এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন কাতারও চমক দেখাতে প্রস্তুত।

  • সরাসরি কোয়ালিফাই করার ফেভারিট: সুইজারল্যান্ড এবং কানাডা।

সূত্র: আল জাজিরা

বিডি প্রতিদিন/আশিক



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews