কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে ফজলুর রহমানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার আহত হওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ দপ্তরে ধারাবাহিক ছুরিকাঘাতে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫)। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে ওই কক্ষ থেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনার দিন থেকেই তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার আসমা সাদিয়ার মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিহত আসমার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়াকে হত্যা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, তবে তাদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার এজাহারে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস-কে, যিনি উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার। সম্প্রতি তাকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে সেখানে বদলি করা হয়েছিল। এছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। এর আগে শ্যাম সুন্দর সরকার একই বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।