কেন্দ্রীয় সরকার ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো স্থানীয়দের মতামতের তোয়াক্কা না করেই যে এখানকার সম্পদ আহরণ ও বিপণন করতে পারে—তার কারণ খনিজপ্রধান জেলাগুলোতে মানববসতি খুব কম। বেলুচিস্তানের যে চাগাইয়ে এত এত দামি খনিজ রয়েছে, সেটা পুরো পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় জেলা (১৭ হাজার বর্গমাইল) হলেও লোকসংখ্যায় ১৪৫টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে কম ১০টির একটি। মাত্র আড়াই লাখ মানুষ আছে এখানে। মানুষ কম হওয়ায় স্বভাবত সম্পদ হারানোর প্রতিরোধ ও প্রতিবাদও কম।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র চাগাইয়ের রেকো দিকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের খনিজ প্রকল্প নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে তারা এফওআরজিই (ফোরাম অন রিসোর্স জিওস্ট্র্যাটেজিক এনগেজমেন্ট। ‘এফওআরজিই’কে বলা হচ্ছে এই অঞ্চলে ট্রাম্পের কূটনীতির কেন্দ্রীয় বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিক গত নভেম্বরে জানিয়েছিল তারা দুর্লভ কিছু খনি অঞ্চলে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন। জোভানোভিকের এই ঘোষণার দুই মাস আগেই ইউএস স্ট্র্যাটেজিক মেটালস (ইউএসএসএম) এবং পাকিস্তানের ফ্রন্টিয়ার ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন বেলুচিস্তানে ‘খনিজ বিষয়ে কৌশলগত সহযোগিতা’র নামে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ইউএসএসএম হলো আমেরিকার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট এ মুহূর্তের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সংস্থা। পাকিস্তানে তারা একটা পলি-মেটালিক রিফাইনারি বানাবে বলে আলাপ রয়েছে।
এসব চুক্তি ও প্রয়োজন মিলেই যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন আগের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিল। জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানের লাগাতার জেলজীবন এবং বেলুচিস্তানের খনিজে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের আলোকেই সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং শরিফ ও ভুট্টো ডাইন্যাস্টির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সুসম্পর্ককে দেখছেন ভূরাজনৈতিক ভাষ্যকারেরা। তবে বেলুচিস্তান নিয়ে গণচীনের আগ্রহ আরও পুরোনো।