বাংলাদেশ আজ এক জটিল অথচ সম্ভাবনাময় সময়ের ভিতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, নতুন সংসদ ও নতুন সরকারের যাত্রা, দীর্ঘদিনের ক্ষয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের দায়, বিশ্ববাণিজ্যের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার চাপ-সব মিলিয়ে রাষ্ট্র যেন একসঙ্গে একাধিক পরীক্ষার মুখোমুখি। এই বাস্তবতায় রাজনীতির ভাষা, আচরণ ও লক্ষ্য-সবকিছুকেই নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। কারণ পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা সমাজে তৈরি হয়েছে, তার গতি বাস্তবায়নের গতির চেয়ে অনেক বেশি। আর এই ফারাকের মধ্যেই জন্ম নিচ্ছে বিতর্ক, সমালোচনা, সন্দেহ, কখনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তিও। গণ অভ্যুত্থান মানুষকে শুধু সরকার বদলের আশা দেয়নি, দিয়েছে রাষ্ট্রকে নতুন করে বোঝার আহ্বান। তাই প্রশ্নটি আর কেবল কে ক্ষমতায় এলো, তা নয়; প্রশ্ন হলো, এই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার হবে, কার স্বার্থে হবে এবং কী ধরনের বাংলাদেশ নির্মাণের দিকে তা এগোবে। গণ অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ঘটায়নি; এটি রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছে। দীর্ঘ সময় ধরে যে শাসনব্যবস্থাকে বহু মানুষ একদলীয়, দমনমূলক ও অসহিষ্ণু হিসেবে দেখেছেন, তার অবসানের পর জনগণ একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশার কেন্দ্রে আছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করা। কিন্তু এই প্রত্যাশা পূরণ করা যে কত কঠিন, তা খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচনব্যবস্থা, ব্যাংক খাত কিংবা রাজস্বনীতি-এসব কিছুই রাতারাতি বদলে ফেলা যায় না। ফলে নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়াকে শুরু করা এবং একই সঙ্গে জনগণের অসীম প্রত্যাশাকে বাস্তবতার সীমায় এনে দাঁড় করানো। নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ময়দানটিও ভীষণ কঠিন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বলছে, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়িয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে, কিন্তু মূল্যস্ফীতি উচ্চই থাকবে ৯ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও মানুষ স্বস্তি পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সাবেক সরকারের সৃষ্ট আর্থিক খাতে দুর্বলতা, ব্যাংকে মূলধনের ঘাটতি এবং বেসরকারি খাতের তারল্যসংকট নিয়ে নতুন অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন যে পুনর্গঠনের আগে মূলধনই পুনরায় জোগাতে হবে। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে উন্নতির খবর থাকলেও তা এখনো ভরসার চেয়েও বেশি সতর্কতার দাবি রাখে; ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ২৯ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছিল। অর্থাৎ একদিকে কিছু পুনরুদ্ধার, অন্যদিকে সেই পুনরুদ্ধারের নিচে জমে থাকা দুর্বল ভিত্তি। এমন অবস্থায় সরকারকে শুধু বাজেটের হিসাব নয়, বিশ্বাসের হিসাবও মেলাতে হবে। পতিত সরকারের ছায়া ভেঙে নতুন শাসনের প্রথম পরীক্ষাই হলো, সে কি পরিবর্তনের সুর ধরতে পারছে, নাকি পুরোনো কাঠামোর ভিতরেই পুরোনো মুখের মানুষগুলোকে নিয়ে পুরোনো অভ্যাস চালিয়ে নেবে। এমন বাস্তবতায় বিএনপির রাজনৈতিক যাত্রাপথ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে। প্রায় ১৭ বছর ধরে দলটি যে দমনপীড়ন, রাজনৈতিক সংকোচন, মামলা, গ্রেপ্তার, সাংগঠনিক চাপ এবং বিরোধী রাজনীতির প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলাদা একটি অধ্যায়। এই দীর্ঘ সময় বিএনপি শুধু বিরোধী দল হিসেবে টিকে থাকেনি; তারা নিজেদের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে নতুন সংসদে তাদের ক্ষমতায় ফেরা কেবল একটি নির্বাচনি ফল নয়, বরং একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার পরিণতি। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই প্রতিরোধের রাজনীতি কি শাসনের রাজনীতিতে রূপান্তরিত হতে পারবে? বিরোধী অবস্থানে যে ভাষা ব্যবহার করা যায়, ক্ষমতায় এসে সেই একই ভাষা কার্যকর হয় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় লাগে সমঝোতা, অন্তর্ভুক্তি, শৃঙ্খলা এবং নীতিনির্ভর সিদ্ধান্ত। একসময়ের নিপীড়িত দল যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়, তখন তার কাছে মানুষ কেবল ন্যায়বিচারই চায় না, চায় সংযমও। ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বের এই ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে বিরোধিতার নৈতিক শক্তিও দ্রুত ক্ষয় হতে শুরু করে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি সহজ নয়। সাম্প্রতিক নানা বিশ্লেষণ এবং অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণের বোঝা, বিনিয়োগের স্থবিরতা, আয়বৈষম্য, উৎপাদন খাতের ধীরগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এসব সমস্যার সমাধান কোনো স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপে সম্ভব নয়। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি হবে মূল সুর। নতুন সরকার কিছু উদ্যোগের কথা বলেছে, কিছু জায়গায় নীতিগত সংকেতও দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নই এখন মূল প্রশ্ন। অর্থনীতি শুধু সংখ্যার খেলা নয়; এটি আস্থার বিষয়। বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক, শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত-সবাই তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা চায়। যদি সেই আস্থা ফিরে না আসে, তাহলে কোনো নীতিই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেবে না। আর যদি আস্থা ফিরেও আসে, তবু সেটা ধরে রাখতে হবে প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া আর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে। এখানেই সমালোচনার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গণতন্ত্রে সমালোচনা অপরিহার্য, কিন্তু সেই সমালোচনা যদি যুক্তির বদলে আবেগনির্ভর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা প্রতিহিংসামূলক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী না করে দুর্বল করে। নতুন সরকারের মাত্র দুই মাসের মাথায় যেভাবে কিছু মহল সব উদ্যোগকে ব্যর্থ ঘোষণা করতে চাচ্ছে, সেটি বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয় এক-দুই মাসে কাটিয়ে ওঠা যায় না। ফলে এ ধরনের অগ্রহণযোগ্য, অর্থহীন সমালোচনা মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করার কৌশল বলেই মনে হয়। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য, সরকারকে এই সমালোচনার জবাব দিতে হবে কাজের মাধ্যমে। কারণ শেষ পর্যন্ত জনগণ ব্যাখ্যা নয়, ফলাফল দেখতে চায়। সরকারের যে কোনো ভুল, দেরি বা অসংগতি সমালোচিত হবেই; কিন্তু সেই সমালোচনা যেন রাষ্ট্রকে পেছনে টেনে ধরার অস্ত্রে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। পুরোনো সহানুভূতি, পুরোনো ক্ষমতার রেশ, পুরোনো সুবিধাভোগের মানসিকতা-এসবই নতুন বাস্তবতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে চাইছে। আর সেটিই আজকের অন্যতম রাজনৈতিক সংকট। এই রাজনৈতিক বাস্তবতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুযোগ বুঝে প্রতিক্রিয়াশীলদের উত্থান। গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী উন্মুক্ত পরিবেশে দক্ষিণপন্থি রাজনীতির একাংশ নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এটি এক অর্থে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, কারণ রাজনৈতিক বহুত্ববাদ গণতন্ত্রের একটি অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু সমস্যাটি তখনই তৈরি হয়, যখন এই উচ্চাভিলাষের সঙ্গে অসহিষ্ণুতা, বিভাজন, একরৈখিকতা এবং ক্ষমতার শর্টকাট খোঁজার প্রবণতা যুক্ত হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পত্রিকাগুলোর কলামগুলোতে এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণামূলক বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব, নারী ও ভিন্নমতের প্রতি সন্দেহপ্রবণতা এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা-এসব বিষয় অন্ধকার ছায়াকে সামনে নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি যখন কেবল মূল্যবোধের রাজনীতি না হয়ে ভয়, প্রতিশোধ ও আধিপত্যের রাজনীতিতে রূপ নেয়, তখন তা সমাজের বহুত্ববাদী চেহারাকেই আহত করে। এখানে একটি সূক্ষ্ম কিন্তু জরুরি ভারসাম্যের প্রশ্ন আছে। নতুন সরকারের জন্য দরকার এমন এক রাজনৈতিক কাঠামো, যেখানে সব মতাদর্শ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিতরে থাকতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে কোনো মতাদর্শ যেন আইনের ঊর্ধ্বে না চলে যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু অধিকার, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য-এসব বিষয়ে আপস করা হলে তা কেবল মানবিক ব্যর্থতা হবে না, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করবে। ডানপন্থার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে, কিন্তু মৌলিক অধিকার ও সংবিধানের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যায় না। রাষ্ট্র যদি চরমপন্থি মনোভাবকে বৈধতা দেয়, তাহলে গণ অভ্যুত্থানের অর্জনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। আর যদি সবকিছুকে ভয় পেয়ে দমন করতে যায়, তাহলে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হবে। তাই প্রয়োজন সংযমী, দায়িত্বশীল এবং আইনসম্মত অবস্থান। বিশ্ব পরিস্থিতিও বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তাঝুঁকি, শুল্কযুদ্ধ, সরবরাহ শৃঙ্খলের টানাপড়েন এবং বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা-এসবের প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। বাংলাদেশ এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ নীতিতে চলছে না; বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গেও তাকে প্রতিদিন হিসাব মেলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাকশিল্প, যা দেশের রপ্তানির প্রধান ভরসা, সেটি আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। কোনো অঞ্চলে যুদ্ধ, কোনো বন্দরে জট, কোনো দেশে চাহিদা কমা, কোনো বড় বাজারে নতুন শুল্ক-এসবের অভিঘাত ঢাকার অফিসে, নারায়ণগঞ্জের কারখানায়, চট্টগ্রামের বন্দরে, আর শ্রমিকের ঘরে এসে পড়ে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যনীতিতেও নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হবে। কেবল নীতিবাক্য দিয়ে এই ঝড় সামলানো যাবে না; দরকার কৌশলগত প্রস্তুতি, বৈচিত্র্যময় রপ্তানি বাজার এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি। এসব কিছুর মাঝখানে প্রশ্ন জাগে, নতুন বাংলাদেশ কি সত্যিই নতুন হতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর।
প্রথমত সরকার কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করতে পারে। দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক দলগুলো কতটা দায়িত্বশীল আচরণ করতে পারে এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তৃতীয়ত সমাজ কতটা সহনশীল ও যুক্তিনির্ভর থাকতে পারে, যাতে দক্ষিণপন্থার চরমপন্থি রূপকে প্রতিহত করা যায়। গণ অভ্যুত্থান মানুষকে যে আশা দেখিয়েছে, সেটি শুধু একটি সরকারের পতনের নয়; এটি একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার সূচনা। সেই রাষ্ট্রচিন্তায় ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব হবে মূল বিষয়; প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার হবে লক্ষ্য; বিভাজন নয়, অন্তর্ভুক্তি হবে শক্তি। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে আমরা দ্রুত ফল চাই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার প্রতি ধৈর্য দেখাতে চাই না। নতুন সংসদ, নতুন সরকার এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা-সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক ট্রানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই ট্রানজিশন সফল হবে কি না, তা নির্ভর করছে আমরা সবাই-রাজনৈতিক দল, সরকার, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষ-কতটা দায়িত্বশীলভাবে এই সময়টিকে পরিচালনা করতে পারি তার ওপর। অতীতের ভুলের প্রতি সহানুভূতি দেখানো আর নতুন ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া এক জিনিস নয়। পেছনে টেনে ধরার রাজনীতি, অন্ধ সমালোচনা, ডানপন্থার ছায়া, অর্থনীতির দুর্বল ভিত্তি এবং বিশ্ব পরিস্থিতির চাপ-সব মিলিয়ে পথ কঠিন। কিন্তু এই পথই এখন সামনে। ইতিহাস বারবার সুযোগ দেয় না। সুযোগ এলে তাকে ধরে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। নতুন বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তটি তাই কেবল শাসনের নয়, নির্মাণেরও। আর নির্মাণের রাজনীতি শুরু হয় তখনই, যখন উচ্চাভিলাষকে দায়িত্ব দিয়ে, আর ছায়াকে আলো দিয়ে মোকাবিলা করার সাহস তৈরি হয়।
♦ লেখক : কবি ও সাংবাদিক