১৯৩১-৩২ মৌসুমে বার্সেলোনার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে স্প্যানিশ লা লিগায় শিরোপা জিতেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৯৪ বছর পর আবারও ‘এল ক্ল্যাসিকো’ দিয়ে শিরোপা মীমাংসার সুযোগ আসে লা লিগায়। এবার শতভাগ পাস হ্যান্সি ফ্লিকের দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে হারিয়ে আবারও সেই ইতিহাস সামনে আনলো কাতালুনিয়ার ক্লাব।
ন্যু ক্যাম্পে রোববার রাতে মৌসুমের দ্বিতীয় ক্লাসিকোয় রিয়ালকে ২-০তে হারিয়েছে বার্সেলোনা। ৬০ হাজারেরও বেশি দর্শক মাঠে সমর্থকরা আনন্দ উল্লাস শুরু করেন নবম মিনিটেই। মার্কাস রাশফোর্ডের ফ্রি কিক থেকে চোখ ধাঁধানো গোলে। উৎসবের পারদ চড়া হতেও সময় লাগেনি। দানি ওলমোর ব্যাক হিল থেকে ফেররান তরেসের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৯ মিনিট পরই। রিয়ালকে তখন মনে হয়েছে, সপ্তাহজুড়ে খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিতর্কের মতোই ছন্নছাড়া।
ম্যাচ জুড়ে অবশ্য আধিপত্য ধরে রেখে খেলে বার্সেলোনা। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে গোলের জন্য নেয়া ১০টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৭টি। বিপরীতে ৮টি শটের মধ্যে মাত্র একটি অনটার্গেটে ছিল রিয়ালের। এই হারে রিয়ালের হাতে আরও তিন ম্যাচ থাকলেও এখানেই শিরোপা রেস শেষ বার্নাব্যুর ক্লাবের।
বিপরীতে তিন ম্যাচ হাতে রেখে টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা শিরোপা জিতেছে ফ্লিকের দল। এটি বার্সার ২৯তম লা লিগা শিরোপা। শিরোপার সংখ্যায় অবশ্য এখনও এগিয়ে লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। তাদের ঘরে আছে ৩৬টি লা লিগা ট্রফি। তবে ব্যবধান কিছুটা কমিয়েছে বার্সেলোনা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালের মোট শিরোপা এখন ১০৫টি, আর বার্সেলোনার ১০৪টি।
৩৫ রাউন্ড শেষে ৩০ জয় ও এক ড্রয়ে বার্সেলোনার পয়েন্ট হলো ৯১। ২৪ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে রেয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৭।

শিরোপা ধরে রাখা নিশ্চিত, তবে অর্জনের এখনও বাকি আছে বার্সেলোনার। দলটির পক্ষ থেকে আগেই বলা হয়েছে, পয়েন্টের সেঞ্চুরি করতে চায় তারা। বাকি তিন ম্যাচও তারা খেলবে সেই লক্ষ্যেই।
এর আগে ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বাবা হারান কোচ ফ্লিক। তবে পেশাদারিত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে ডাগআউটে দাঁড়ানোর কথাও তিনি আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন।