নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-(ডিএনসিসি)র নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন উত্তরখান ও দক্ষিণখানের বাসিন্দারা। সড়কবাতি না জ্বলা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, জলাবদ্ধতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে জানান তারা।



সেবা নেই, করের বোঝা বাড়ছে

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উত্তরখান-দক্ষিণখানের পাড়া-মহল্লায় ডিএনসিসির নাগরিক সেবার দেখা মিলছে না। অথচ দিন দিন করের চাপ বাড়ছে। রাতে সড়কে বাতি জ্বলে না, সকাল থেকে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত গ্যাসের লাইনে চাপ থাকে না। গ্যাসের অভাবে দিনের বেলায় অনেক বাসায় চুলা জ্বলে না। নিম্নআয়ের মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ। গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন গৃহবধূরা।



দক্ষিণখানের দেওয়ানবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ইউরোপীয়ান ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হাফসা আক্তার বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা পানিতে বন্দী হয়ে যাই। হাঁটুসমান পানির মধ্যে চলাচল করতে হয়। যাদের এসব দেখার কথা, তারা দায়িত্ব পেলেই ভুলে যান। গত কয়েক বছর ধরে বাসায় গ্যাস পাই না, অথচ প্রতি মাসে বিল দিতে হয়। ডিএনসিসির কি কোনো দায়িত্ববোধ নেই?”



অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িতে চরম ভোগান্তি

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিএনসিসির অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ির কারণে উত্তরখান-দক্ষিণখান থানা এলাকার ৭টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট ভেঙেচুরে একাকার। জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ির মালিকসহ কয়েক লাখ বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। এ সব কারণে স্থানীয় দোকানিরাও ব্যবসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।



বাড়ির মালিক নুরু মিয়া বলেন, “আমরা নিয়মিত ট্যাক্স-খাজনা দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশনে যুক্ত হয়েছি। ভেবেছিলাম এখন সুবিধা পাবো, কিন্তু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।”



পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

স্থানীয়রা জানান, ডিএনসিসিতে যুক্ত হওয়ার ৬ বছরেও নতুন ওয়ার্ডগুলোতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই পাড়া-মহল্লার সড়ক ডুবে যায়। পানি সরতে লাগে কয়েকদিন। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি ছাড়াই দক্ষিণখানের আশকোনা সিটি কমপ্লেক্স ও দেওয়ানবাড়ী এলাকার অনেক সড়কে বাসা-বাড়ির পানি জমে থাকে। ময়লা-আবর্জনাযুক্ত কাদা পানিতে পথচারী চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।



বাসিন্দাদের ভাষ্য, তীব্র গরমে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানিতে পরিবেশ দূষণ, মশা-মাছির উপদ্রব, চর্মরোগ, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ। ছোট দোকানিদের বেচাকেনাও কমে গেছে।



কর্তৃপক্ষের আশ্বাস

স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিএনসিসির প্রশাসক বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “ডিএনসিসির ফান্ডের অভাব নেই, কিন্তু কাজের প্রতি আন্তরিকতার অভাব রয়েছে।”বাসিন্দারা দ্রুত রাস্তাঘাট মেরামত, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নতকরণ, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং নিয়মিত সড়কবাতি চালুর দাবি জানিয়েছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews