জাতীয় নির্বাচন মানেই কি শুধু ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা? একটি গণতান্ত্রিক দেশে, জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে বহমান রাজনৈতিক তাপমাত্রা, সামাজিক মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিফলনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। আর নির্বাচনের আগে এই তাপমাত্রা এবং প্রত্যাশা মাপার অন্যতম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো সার্ভে বা জরিপ।

পরিসংখ্যানের ভাষায়, জরিপ হলো পপুলেশন (টার্গেট গ্রুপ) থেকে একটি প্রতিনিধিত্বশীল স্যাম্পল নিয়ে পপুলেশনের কিছু অজানা বৈশিষ্ট্য (প্যারামিটার) সম্পর্কে ধারণা পোষণ করা| যেমন ভোটের ক্ষেত্রে ভোট প্রদানের ইচ্ছা, রাজনৈতিক আস্থা, অংশগ্রহণ প্রবণতা, ভোটারদের ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি অনুমান করার পদ্ধতি। অর্থাৎ জরিপ কোনো অনুমানের খেলা নয়, এটি একটি সুসংহত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। প্রবাবিলিটি এবং নন প্রবাবিডিটির যে-কোনো জরিপ পদ্ধতির মাধ্যমে এই গবেষণা প্রক্রিয়াটি চালিয়ে নিতে হয়|

কিন্তু সাম্প্রতিক ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রকাশিত একাধিক প্রাক-নির্বাচনি জরিপ আমাদের সামনে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা তুলে ধরেছে| একই সময়ে, একই দেশে, একই ভোটার পপুলেশন নিয়ে করা জরিপে একেকটি প্রতিষ্ঠান একেক রকম ফল প্রকাশ করছে। কোথাও বিএনপি অনেক এগিয়ে, কোথাও জামায়াত সমানতালে, কোথাও জামায়াত এগিয়ে, কোথাও আবার বিশালসংখ্যক ভোটার “বলতে চান না”।
এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, জরিপ কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য? বিভিন্ন বিশ্লেষক, ব্রডকাস্ট-টকশোতে প্রখ্যাত সাংবাদিক অথবা ব্যক্তিত্বর অনেককে বলতে শুনেছি ইলেকশন জরিপ হলো একটি ভুয়া বিষয়, এমন ভুয়া বিষয়কে বিশ্বাস করতে নাই| এমনভাবে জরিপকে তুলা ধুনা করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে জরিপ পদ্ধতিটি সম্পর্কে একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়| আমি মনে করি, এমনটি করা হলে এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হিসেবে জরিপের ডিগনিটি বা মর্যাদাকে খাটো করে| বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি যে, জরিপের গুণগতমান অথবা তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন না তুলে সরাসরি জরিপকে একটি ভুয়া পদ্ধতি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে| যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অসভনীয়|

নির্বাচন জরিপের কাজ অন্ধভাবে ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া নয়| সততার সাথে “পাবলিক পালস” বোঝা। কিন্তু যখন জরিপ পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক পক্ষপাতের বশবর্তী হয়ে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে জনমত ফুলিয়ে দেখাতে মনগড়া ফলাফল প্রচার করে, কিংবা সঠিক জরিপ হওয়া সত্ত্বেও যখন মিডিয়া “কে জিতছে”–এর নাটকীয় উত্তেজনায় জরিপকে প্রতিযোগিতার ট্রফিতে রূপান্তর করে, তখন জরিপ তার বৈজ্ঞানিক মর্যাদা হারায়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়, আস্থা নষ্ট হয়, এবং সমাজ ধীরে ধীরে তথ্যনির্ভর চিন্তার জায়গা থেকে সরে আসে। জরিপ প্রকাশের এই দৌড়ে যদি পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা, প্রতিনিধিত্বশীলতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা উপেক্ষিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি গবেষণা নয়-ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতান্ত্রিক আলোচনার ভিত্তি নিজেই।

মাথা ব্যথা হলে ঔষধ না দিয়ে মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে| নাচতে না জানলে উঠোনকে দোষ দেওয়া হচ্ছে| ঠিক তেমনি, একটি দুর্বল বা পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন জরিপ মানেই জরিপ পদ্ধতি খারাপ, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অবিবেচক। সমস্যা জরিপে নয়, সমস্যা জরিপ পরিচালনার মানে অর্থাৎ, পদ্ধতি, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতায়। জরিপের ফল একটি সংখ্যা নয়, একটি প্রক্রিয়ার আউটপুট। প্রক্রিয়া ভিন্ন হলে আউটপুটও ভিন্ন হবে। এবং এই প্রক্রিয়ার সমস্ত ধাপে পদ্ধতি গুলোর ব্যাখ্যাসহ জরিপের বিদ্যমান সুবিধা অসুবিধা গুলো জরিপের ফলাফলকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে জরিপকারীদেরকে সে ব্যাপারেও ব্যাখ্যা দিতে হয় জরিপের ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে| কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা দেখি সেটা উপস্থিত থাকেনা|

সর্বশেষ প্রকাশিত হয় EASD জরিপ। জানুয়ারির ১৮–৩১ তারিখে পরিচালিত এই জরিপে ৪১,৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যেখানে মাঠপর্যায়ে ১৫০ জন প্রশিক্ষিত ডেটা সংগ্রাহক সারা দেশ থেকে অনেকগুলো পি-এস-ইউ থেকে Kobo Toolbox–এর মাধ্যমে তথ্য নেন। এই জরিপটির পদ্ধতি অনেকটাই বহুল পরিচিত BDHS এবং হেইচ জরিপের আদলে করা হয়েছে| এই জরিপে বিএনপির প্রতি সমর্থন দেখানো হয়েছে ৬৬.৩ শতাংশ, জামায়াতের ১১.৯ শতাংশ, জাতীয় পার্টির ৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ২.৬ শতাংশ। যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসন, জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ৪৬টি পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

বিপরীতে, IILD–এর জরিপ (২১ জানুয়ারি–৫ ফেব্রুয়ারি), যেখানে নমুনার আকার ছিল ৬৩ হাজারেরও বেশি, সেখানে দেখা যায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট (৪৪.১%) ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট (৪৩.৯%) প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য ৬.৫ শতাংশ ভোটার এখনও অনিশ্চিত। এই দুই জরিপের নমুনার আকার অনেক বড় হলেও প্রাপ্ত ভোট অথবা আসন সংখ্যার সংখ্যাগত বড় পার্থক্য অনুমেয়| প্রাপ্ত রেজাল্টে ব্যাপক অমিল থাকায় অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। বড় নমুনা হওয়া সত্ত্বেও কেন এমন? এর সম্ভাব্য উত্তর হতে পারে- জরিপ দুটির মধ্যে জরিপ পদ্ধতিতে ভিন্নতা, সিলেকশন বায়াসসহ অন্যান্য বায়াসের উপস্থিতি, স্যাম্পলিং এবং ননসাম্পলিং এররের ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা, এথিক্স এর ভিন্নতা ইত্যাদি থাকতে পারে| এসব উপস্থিত থাকলে নমুনা বড় হওয়া সত্ত্বেও জরিপ সাধারণত ভালো রেজাল্ট দিতে পারে না| কোন জরিপটি পপুলেশনের চরিত্র ভালোভাবে তুলে ধরতে পারে সেটি বলা যেতে পারে শুধু এসব বিষয় সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে|

অন্যদিকে, Innovision–এর “People’s Election Pulse Survey (Round-3)” তুলনামূলকভাবে ছোট (৫,১৪৭ জন) হলেও বিশ্লেষণাত্মকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ইঙ্গিত দেয়। এখানে “র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং” বলা হলেও বাস্তবে এটি পূর্ববর্তী রাউন্ডের উত্তরদাতাদের সঙ্গে নতুন নমুনা যুক্ত করে তৈরি একটি কম্বাইন্ড প্যানেল ডিজাইন। এই জরিপে সিদ্ধান্ত-নেওয়া ভোটারদের মধ্যে বিএনপি জোটের সমর্থন ৫২.৮ শতাংশ, জামায়াত জোটের ৩১ শতাংশ, এবং ১৩.২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের রাজনৈতিক পছন্দ প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, CRF–BEPOS জরিপ (ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে প্রকাশিত) ইঙ্গিত দেয় যে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আগ্রহী, সাবেক শাসকদলের সমর্থকদের একটি বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক জোটের দিকে সরে যাচ্ছে, এবং দুর্নীতি ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চারটি জরিপ একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, সংখ্যাগুলো শুধু রাজনৈতিক শক্তির মানচিত্র নয়, বরং জরিপের উদ্দেশ্য, নকশা, প্রশ্নের ধরন এবং বিশ্লেষণ পদ্ধতির পার্থক্যেরও প্রতিচ্ছবি রয়েছে। ফলে চারটি জরিপ একই ধরনের রেজাল্ট দিতে ব্যর্থ হয়েছে| মনে রাখতে হবে জরিপের প্রধান উদ্দেশ্য হল পপুলেশন সম্পর্কে একটা অনুমেয় ধারণা দেওয়া| একটি জরিপ যত বৈজ্ঞানিক এবং গুণগত মান সম্পন্ন হয় ততই এই অনুমেয় ধারণাটি সঠিক ধারণার দিকে ধাবিত হয়| ভিন্ন ভিন্ন জরিপ এই অনুমেয় ধারণাটিকে প্রক্ষেপ করে মাত্র| এবং এটাই বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক| প্রক্ষেপণের ধারা বা গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য বিভিন্ন ধরনের জরিপ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে|

সারা বছর পপুলেশন সম্পর্কে এই ধরনের অনুমেয় ধারণা পেতে আমরা প্রতিনিয়ত জরিপ চালিয়ে যাচ্ছি| একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তিই হলো জরিপ হতে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য। শিক্ষা খাতে স্কুলে ঝরে পড়া শিশু শনাক্ত করা, স্বাস্থ্যখাতে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি নিরূপণ, দারিদ্র্য বিমোচনে কোন অঞ্চল সবচেয়ে পিছিয়ে আছে নির্ধারণ, কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনে কোন উপকূলীয় জনগোষ্ঠী সবচেয়ে ঝুঁকিতে, এই সবকিছুই জানা যায় পপুলেশন–ভিত্তিক জরিপ থেকে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী নির্বাচন, টিকাদান কাভারেজ মূল্যায়ন, এমনকি জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বরাদ্দের যৌক্তিকতা তৈরিতেও জরিপের তথ্য সরাসরি ব্যবহৃত হয়। এক কথায় জরিপ ছাড়া উন্নয়ন অন্ধকারে তীর ছোড়ার মতো| ভালো জরিপ থাকলে নীতিনির্ধারণ হয় লক্ষ্যভিত্তিক, সম্পদের অপচয় কমে, এবং প্রকৃতভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হয়।

কেন এক জরিপ আরেক জরিপের মতো ফল দেয় না, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে| নমুনা ফ্রেম ও কাভারেজ সমস্যা: কারা তালিকায় আছে-রাজনৈতিক সামাজিক বা ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে নাকি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে, কারা বাদ পড়েছে-এটাই “কভারেজ”। শহর-গ্রাম, উপকূল-হাওর, পাহাড়, প্রবাসী পরিবারের ভোটার, মোবাইল নম্বরহীন/কম ব্যবহারকারী-এসব গোষ্ঠী ঠিকভাবে কাভার না হলে সমর্থনের হিসাব ঠিক থাকে না। বড় নমুনা থাকলেই যথেষ্ট নয়; সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে।

মোড ইফেক্ট: মুখোমুখি সাক্ষাৎকারে মানুষ ভিন্নভাবে উত্তর দিতে পারে; ফোনে ভিন্ন; অনলাইন ফর্মে আবার ভিন্ন। মাঠে “সামাজিক গ্রহণযোগ্য” উত্তর দেওয়ার প্রবণতা (social desirability bias) বেশি হতে পারে; আবার ফোনে “ঝটপট উত্তর” সমস্যা থাকে। প্যানেল-ডেটা হলে “একই ধরনের লোক বারবার” আসার ঝুঁকি থাকে, ফলে জনমত নয়, প্যানেল-মনোভাব ধরা পড়ে। Innovision জরিপে “পূর্ববর্তী রাউন্ডের প্যানেল” এর কথা স্পষ্টভাবে এসেছে, এটা বৈজ্ঞানিকভাবে করা যায় ঠিকই, কিন্তু সীমাবদ্ধতা না বললে তা বিভ্রান্তিকর।

অনির্ধারিত (Undecided) ও “বলবো না” ব্লক: IILD জরিপে অনিশ্চিত ৬.৫% , Innovision–এ ১৩.২% “বলবো না” এগুলো ছোট মনে হলেও, কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগুলোই হিসাবের খেলাটাকে বদলে দিতে পারে। অনেক জরিপ এই তথ্যগুলো সংগ্রহ করেনা, আবার অনেক জরিপ এগুলোকে “মেশিন লার্নিং/মডেল দিয়ে” বের করার চেষ্টা করে- সেখানেও কিন্তু সঠিক মডেল-ধারণা (assumption) জানা না থাকলে সঠিক রেজাল্ট পাওয়া যায় না। প্রশ্নের ভাষা ও ক্রম: “আপনি কাকে ভোট দেবেন?” বনাম “আপনার এলাকায় কে জিতবে?” প্রশ্ন দুটি কিন্তু এক নয়। দ্বিতীয়টি অনেক সময় “ব্যান্ডওয়াগন” বা গুজবের প্রতিফলন।

আসন প্রক্ষেপণের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস: ভোট-শেয়ারের জরিপকে আসন-সংখ্যায় রূপান্তর করতে গেলে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থী-ব্যক্তিত্ব, জোট-সমঝোতা, এলাকা-ভিত্তিক টার্নআউট, এসব লাগে। সামান্য সুইংয়ে আসন নাটকীয়ভাবে বদলায়। তাই “২০৮ আসন নিশ্চিত” এ ধরনের শিরোনাম জরিপের মর্যাদার জন্য বিপজ্জনক। নিরাপত্তা-ভয় ও “প্রেফারেন্স লুকানো”: প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে মানুষ কখনও কখনও নিজের পছন্দ প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকে। CRF–BEPOS জরিপে ভোটকেন্দ্র নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা আছে, এটা থাকলে “বলবো না” শ্রেণি বাড়ে। ফলাফল তখন “যারা বলার পক্ষে কিংবা সাহস করে বলে ফেলে”-তার দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।

লিঙ্গ/বয়স/লোকেশন ভারসাম্য: EASD জরিপে পুরুষ ~৬৪% ও নারী ~৩৬% ছিল যেটা বাস্তব ভোটার-এর ডিস্ট্রিবিউশনের সঙ্গে মিলে না| ফলে ওয়েটিং করা দরকার। অর্থায়ন ও স্বার্থসংঘাত: কোন জরিপ কার অর্থায়নে, কার টেকনিক্যাল সাপোর্টে, এসব জানানো জরুরি। TBS এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জরিপকারীদের রাজনৈতিক পক্ষপাত/সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ উঠেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান জুলাই পরবর্তী সময়েই জরিপ শুরু করেছে। স্বচ্ছতার অভাব: মেথডোলজি রিপোর্ট ছাড়া “সংখ্যা” প্রকাশ: জরিপ প্রকাশে ন্যূনতম যা লাগবে: নমুনা নকশা, স্তরীকরণ/ক্লাস্টার, ওয়েটিং, ত্রুটি-সীমা, প্রশ্নপত্র, ফিল্ডওয়ার্ক তারিখ, রিপ্লেসমেন্ট রুল, ডেটা ক্লিনিং-এসব।

নির্বাচন জরিপের কাজ অন্ধভাবে ভবিষ্যদ্বাণী দেওয়া নয়| সততার সাথে “পাবলিক পালস” বোঝা। কিন্তু যখন জরিপ পরিচালনাকারী কোনো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক পক্ষপাতের বশবর্তী হয়ে নির্দিষ্ট দলের পক্ষে জনমত ফুলিয়ে দেখাতে মনগড়া ফলাফল প্রচার করে, কিংবা সঠিক জরিপ হওয়া সত্ত্বেও যখন মিডিয়া “কে জিতছে”–এর নাটকীয় উত্তেজনায় জরিপকে প্রতিযোগিতার ট্রফিতে রূপান্তর করে, তখন জরিপ তার বৈজ্ঞানিক মর্যাদা হারায়। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়, আস্থা নষ্ট হয়, এবং সমাজ ধীরে ধীরে তথ্যনির্ভর চিন্তার জায়গা থেকে সরে আসে। জরিপ প্রকাশের এই দৌড়ে যদি পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা, প্রতিনিধিত্বশীলতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা উপেক্ষিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শুধু একটি গবেষণা নয়-ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতান্ত্রিক আলোচনার ভিত্তি নিজেই।

লেখক: অধ্যাপক, ফলিত পরিসংখ্যান এবং ডেটা সায়েন্স, পরিসংখ্যান গবেষণা ও শিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এইচআর/এএসএম



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews