৮০ বছর বয়সেও যেন এক তরুণ কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ খুরশিদ আলম। সেই ১৯৬০ সালে ‘আগন্তুক’ সিনেমায় প্রথম নেপথ্য কণ্ঠ দিয়ে ১০০ টাকা পারিশ্রমিক পাওয়া। এরপর আর থেমে থাকতে হয়নি তাকে। একের পর এক জনপ্রিয় গান গেয়ে গেছেন। যখন তিনি সংগীতে এলেন তখন এ ভুবনে খন্দকার নুরুল আলম, মাহমুদুন্নবী, আব্দুল জব্বারদের রাজত্ব। এদের মাঝে নিজের জায়গা করে নিলেন খুরশিদ আলম।
আজ বরেণ্য এ কণ্ঠশিল্পী পা রাখছেন ৮১তম বছরে। এখন জন্মদিন ঘটা করে পালন হয় না বলে জানালেন তিনি। জন্মদিনের কথা বলতে গিয়ে মানবজমিনকে খুরশিদ আলম বলেন, সত্যি বলতে আমার শৈশবের জন্মদিনেও বাবা-মা তেমন কোনো আয়োজন করতেন না। সেই সময় আজকের মতো জন্মদিন নিয়ে মাতামাতি ছিল না। আর এখন তো জন্মদিন মানেই মৃত্যুর মিছিলে একধাপ এগিয়ে চলা। তবুও মানুষ সংসার জীবনে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলে। এখনকার জন্মদিনে আমার দুই মেয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। কেক কাটা হয় না, এ বিষয়ে আমার উৎসাহ নেই। অবশ্য এবারের জন্মদিনে জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ আমার সঙ্গে জীবন নিয়ে স্মৃতিমূলক অনুষ্ঠান তৈরি করেছেন, যা আমার জন্মদিনের বিশেষ উপহারই বটে। যদি জিজ্ঞাসা করি কোন অভিনেতার লিপে আপনার গান পর্দায় বেশি জীবন্ত মনে হতো, আপনার উত্তর কী হবে? খুরশিদ আলম বলেন, সিনেমায় আমার যত গান রয়েছে তার ৬০ ভাগ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন প্রয়াত নায়ক রাজ্জাক। বাকি গানগুলোর অনেকটা জুড়ে রয়েছেন প্রয়াত নায়ক ওয়াসিম এবং জাবেদ।
এই বাইরেও অনেক নায়ক আমার কণ্ঠে পর্দায় অভিনয় করেছেন। দ্বৈত কণ্ঠে সিনেমায় দুই কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা ও সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? এ শিল্পী বলেন, অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তবে সাবিনা ও রুনার আগে আমার সৌভাগ্য হয়েছিল আঞ্জুমান আরা বেগমের মতো জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর সঙ্গে ডুয়েট গান করার। তবে একটি দুঃখ আছে। শ্রদ্ধেয় ফেরদৌসী রহমান আপার সঙ্গে সেই সময় সুযোগ পেয়েও কাজ করা হয়ে ওঠেনি। রুনা লায়লার সঙ্গে আমার দু’টি গান খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। সেগুলো হচ্ছে- ‘ঘরণী’ সিনেমার ‘যদি বউ সাজো গো’ এবং ‘জিঘাংসা’ সিনেমার ‘পাখির বাসার মতো দু’টি চোখ তোমার’। দর্শকদের অনেক ভালোবাসা সারা জীবন পেয়েছেন।
কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া হয়নি। এই নিয়ে আক্ষেপ আছে? খুরশিদ আলম বলেন, শিল্পীরা তো শিল্প চর্চা করেন, এটাই তাদের কাজ। দর্শকরা তাদের ভালোবাসেন, সম্মান করেন। এর চেয়ে বড় কোনো পাওয়া নেই। আর পুরস্কারের জন্য হয়তো সে সময় আমাকে তারা যোগ্য মনে করেন নাই।
আশ্চর্যের বিষয়- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পেলেও বাংলাদেশ সরকার আমাকে একুশে পদকে ভূষিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত বিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল আই সেরা কণ্ঠ’ আমাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাইনি বলে আক্ষেপ নেই আমার।