পাকিস্তানের আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘কাঠামোগত ও দীর্ঘস্থায়ী বৈষম্য’ চালানোর অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ বিষয়ে কড়া ভাষায় দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের সরকারের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

ওই চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, পাকিস্তান আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন বাড়তে দিচ্ছে। তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে সরকার।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, পাকিস্তানে আহমদিয়ারা নিয়মিত হয়রানি, ধর্ম পালনে বাধা, নির্বিচার গ্রেপ্তার, সহিংসতা এবং প্রশাসনিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বড় ইসলামী ধর্মীয় উৎসবগুলোর সময় এসব নিপীড়ন আরো বেড়ে যায়। সংগঠনটি পাঞ্জাব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ নিতে হবে।

চিঠিতে উল্লেখ আরো করা হয়, চলতি বছরের ঈদুল ফিতরের সময় পাঞ্জাবজুড়ে আহমদিয়াদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অ্যামনেস্টির তথ্য মতে, গুজরানওয়ালায় আহমদিয়াদের জামাত নিষিদ্ধ করা হয়, সিয়ালকোটের ছয়টি স্থানে উপাসনা বন্ধ করে দেয় পুলিশ এবং ফয়সালাবাদে নামাজের স্থান থেকে মুসল্লিদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২১ মার্চ সারগোধায় কয়েকটি আহমদিয়া উপাসনালয় সিলগালা করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠনটি আরো বলেছে, এসব ঘটনা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থিত ভয়ভীতি প্রদর্শনের বৃহত্তর ধারারই অংশ।জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য নির্মূলবিষয়ক কমিটির তথ্য উদ্ধৃত করে অ্যামনেস্টি জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈদের সময় বহু আহমদি গ্রেপ্তার, আটক এবং পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালে কিছু আহমদিকে ঈদের ধর্মীয় আচার পালন না করার অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতেও বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।

চিঠিতে আরো বলা হয়, আহমদিদের কবরস্থানে হামলা, টার্গেট কিলিং, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এবং চিকিৎসক, শিক্ষক ও আইনজীবীদের মতো পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা বেড়ে যাচ্ছে। এতে সম্প্রদায়টির মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং তারা কার্যত জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।

অ্যামনেস্টি আরো অভিযোগ করেছে, ২০২৪ সাল থেকে আহমদিয়াদের বিয়ে নিবন্ধনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন সম্প্রদায়টির দেওয়া বিয়ে ও তালাকের সনদ স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী। একই সঙ্গে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ২৯৫ ও ২৯৮ ধারাসহ বৈষম্যমূলক আইন বাতিল বা সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। যেগুলো প্রায়ই আহমদিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র : এএনআই

বিডি প্রতিদিন/নাজিম



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews