অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। আর সেই ইতিহাসের অন্যতম প্রধান কারিগর হাসান মাহমুদ। দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন এই পেসার। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়েও দলের পরিকল্পনা, বোলারদের ধৈর্য এবং নিজেদের ওপর বিশ্বাসকেই বড় করে দেখছেন তিনি।
ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে হাসান বলেন, ‘ম্যাচ শুরুর আগেই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের সেরাটা দেয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। ম্যাচের আগে, অনুশীলন সেশনে আমরা প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। ফলাফল কী হবে, সেটা না ভেবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে কিভাবে সফল হলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের এই পেসার জানান, এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের নিয়ে কোচদের সাথে বিশ্লেষণ করেছেন তারা, দেখেছেন ভিডিও এবং সেই পরিকল্পনাই মাঠে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন।
হাসান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে আমাদের কিছু দলীয় পরিকল্পনা ছিল। কোচদের সাথে আমরা কাজ করেছি, ভিডিও দেখেছি। এরপর মাঠে গিয়ে আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’
ডারউইনের উইকেটে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসারদের বোলিংয়ে ছিল নিয়ন্ত্রণ। উইকেট পাওয়ার জন্য বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নির্দিষ্ট জায়গায় বল করে যাওয়াই ছিল তাদের পরিকল্পনা। সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে সেই ধৈর্যের কথাই তুলে ধরেন হাসান।
তার ভাষায়, ‘বোলাররা ধৈর্য ধরেছে। আমরা লাইন ও লেংথে অটল ছিলাম। এরপর ফলাফল এসেছে।’ সেই ফলাফল এসেছে দুর্দান্তভাবে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে একাই ৬ উইকেট নেন হাসান। তার সাথে তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনের কার্যকর বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।
এরপর ব্যাট হাতে বাংলাদেশ তুলে নেয় ৪২৬ রান। তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে বাংলাদেশ পায় ২২৮ রানের লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা থামিয়ে দেন বাংলাদেশের পেসাররা। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৩ উইকেট নিয়ে হাসান পূর্ণ করেন ৯ উইকেটের কীর্তি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ এবং ৯ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস।
তবে এত বড় ব্যক্তিগত অর্জনের পরও হাসানের ভাবনায় ছিল দেশের মানুষ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের এই জয় দেশে কী ধরনের আনন্দ তৈরি করেছে- জানতে চাইলে আবেগী কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চয়ই আমার জন্য ভীষণ খুশি হবে। আমার দেশের মানুষ উৎসব করবে।’
সত্যিই উৎসবের উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন হাসানরা। অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে লিখেছে নতুন ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের পাতায় ৯ উইকেট নিয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকল হাসান মাহমুদের নাম।